প্রবাসীদের অধিকার ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এনকে নয়নের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা, পারিবারিক পুনর্মিলন, উচ্চশিক্ষা, বিনিয়োগ ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সলিডারিটি আজি ফ্রান্স (SAF)-এর সভাপতি এনকে নয়ন।
বাংলাদেশে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। আলোচনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়।
ফরাসি নাগরিক ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লেখক, সাংবাদিক এবং বাংলা ভাষার দোভাষী এনকে নয়ন দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সে অভিবাসীদের সামাজিক ও প্রশাসনিক সহায়তামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বৈঠকে তিনি ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের সম্মুখীন হওয়া চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
বিশেষ করে ফ্রান্সে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের পারিবারিক পুনর্মিলন প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক সেবা গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা এবং অভিবাসীদের সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়। এ সময় এনকে নয়ন তাঁর নেতৃত্বাধীন সলিডারিটি আজি ফ্রান্সের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। সংগঠনটি অভিবাসীদের প্রশাসনিক পরামর্শ, সামাজিক সহায়তা এবং ফরাসি সমাজে তাঁদের একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছে।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ। ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া, শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্যপ্রাপ্তি এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।
পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বৃদ্ধি, নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা অনুসন্ধান এবং দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা, দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং উদ্ভাবনী প্রকল্পের উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফ্রান্সের ট্যালেন্ট ভিসাব্যবস্থা নিয়েও মতবিনিময় হয়।
আলোচনায় ফ্রান্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা এবং প্রবাসীদের সেবার মানোন্নয়নে কার্যকর সহযোগিতার বিষয়টিও উঠে আসে। বিশেষ করে প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠককালে এনকে নয়ন তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ফরাসি ও বাংলা ভাষায় প্রকাশিত নিজের বই, সাহিত্যচর্চা এবং সামাজিক ও সাংগঠনিক উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির সম্ভাবনাও আলোচনায় স্থান পায়।
বৈঠক শেষে এনকে নয়ন রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলেকে সময় দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরির জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আলোচনা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণের পথ সুগম করতে পারে।
সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে এ বৈঠককে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সমস্যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে তুলে ধরা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন এনকে নয়ন।