ঢাকা , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্যারিসে প্যারিস টাইমসের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বইমেলা, শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ফ্রান্সে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ফ্রান্স’র ঢাকা বিভাগ অ্যাসোসিয়েশন’র সাধারণ সভা ও সাংগঠনিক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত প্রবাসীদের অধিকার ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে নয়নের বৈঠক প্যারিসে বিশ্বনাথের ফয়ছল আহমেদ নিখোঁজ, উদ্বিগ্ন পরিবার ফ্রান্সে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ফ্রান্সে আবুল খায়ের লিটনের জানাজার নামাজ শুক্রবার ফ্রান্সের বেসাঁসোঁতে বাংলাদেশ কমিউনিটি ACBB-এর অভিষেক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ফেসবুক পোস্টে দুর্ঘটনার কথা জানান তানজিন তিশা যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বন্দুক হামলায় নিহত ১৪

প্রথম রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেলেন সালাহউদ্দীন সুমন

  • প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত

ট্রাভেল ভ্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে দেশের পর্যটন খাতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’ পাচ্ছেন সালাহউদ্দীন সুমন (আবু মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন সুমন)। ‘বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ হিসেবে তাকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। রাষ্ট্রীয়ভাবে পাওয়া এই স্বীকৃতিকে নিজের জন্য বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।



পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে সালাহউদ্দীন সুমন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশের ট্যুরিজম নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। যা সরকারিভাবে পরিচালিত হয়। এমন একটা রাষ্ট্রীয় জায়গা থেকে এমন একটা সম্মাননা পাওয়া একজন ক্রিয়েটরের জন্য এটা অবশ্যই আনন্দের, গর্বের। এই পুরস্কার ঘোষণা হওয়ার পর যখন জেনেছি যে এটা আমাকে দেওয়া হচ্ছে, আমার খুবই ভালো লেগেছে। একটা রাষ্ট্রীয় জায়গা থেকে একটা স্বীকৃতি অবশ্যই আমার ভালো লেগেছে। রাষ্ট্রীয় এ পুরস্কার-স্বীকৃতি পেয়ে ভীষণ ভালো লাগছে। প্রথম কোনো সরকারি রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো পুরস্কার আমি পাচ্ছি, এটা আমার জন্য আনন্দের।’




তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে কখনো সরকারি কোনো স্বীকৃতি বা কোনো পুরস্কার আমি পাইনি। সেই জায়গা থেকে একজন ক্রিয়েটর হিসেবে আমার অনেক ভালো লাগছে পুরস্কারের খবর পেয়ে। তাদের (টুরিজম বোর্ড) প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। যদিও তাদের ট্যুরিজম বোর্ড বা বাংলাদেশের পর্যটন খাত নিয়ে আমি অনেক সমালোচনা করে কথা বলেছি।’



পর্যটন খাত নিয়ে নিজের সমালোচনামূলক বক্তব্যের প্রসঙ্গে সুমন বলেন, ‘এটা সব সময় থাকবে দেশের জন্য। আমি যদি কোনো নেতিবাচক কিছু দেখি বা আমার কাছে যদি মনে হয় একজন ক্রিয়েটর হিসেবে আমাদের পর্যটনের উন্নয়নের জন্য কোনো কিছু বলা দরকার, সেটা আমি সব সময় বলব, অবশ্যই বলব। তবে তারা যে আমাকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন, এটার জন্য তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা অবশ্যই জানাই।’



বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে টেকসই উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিতকরণ এবং পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়া হচ্ছে।



বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় পর্যটন সংস্থা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এ পুরস্কারের আয়োজন করছে। বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও পর্যটন উদ্যোগের কাছ থেকে মনোনয়ন আহ্বান করা হয়েছিল। প্রাপ্ত মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীজনের সমন্বয়ে ক্যাটাগরিভিত্তিক জুরি বোর্ড গঠন করা হয়।



জুরি বোর্ডের যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বর্ষসেরা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগ নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সালাহউদ্দীন সুমন (আবু মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন সুমন)।



সালাহউদ্দীন সুমনের বর্তমান পরিচয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হলেও তার পেশাজীবনের শুরু সাংবাদিকতা দিয়ে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় পড়ার সময়ই সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। প্রথমে একটি পত্রিকায় কাজ করেন। পরে যোগ দেন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে।


পড়াশোনা শেষে ২০১৩ সালে রাজশাহী থেকে ঢাকায় এসে ওই টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ শুরু করেন সুমন। দীর্ঘ সময় সাংবাদিকতা করার পর পদোন্নতি পেয়ে বিশেষ প্রতিনিধি হন। ২০২১ সাল পর্যন্ত টেলিভিশন সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন তিনি।



নিয়মিত চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের কথা ভাবতে গিয়েই কনটেন্ট ক্রিয়েশনের দিকে আগ্রহ তৈরি হয় সুমনের। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে স্ক্রিপ্ট লেখা, ভিডিও ধারণ, ভয়েসওভার দেওয়া ও ভিডিও সম্পাদনার অভিজ্ঞতা ছিল তার। সেখান থেকেই নিজের ইউটিউব চ্যানেল খোলার চিন্তা আসে।




তবে হুট করে ইউটিউবিং শুরু করেননি তিনি। প্রায় দুই মাস বিভিন্ন ইউটিউব ভিডিও দেখে মানুষের আগ্রহ, কোন ধরনের কনটেন্ট বেশি দেখা হয় এবং কোন বিষয় নিয়ে তুলনামূলক কম কাজ হয়েছে-এসব নিয়ে গবেষণা করেন। তখনই ইতিহাস ও ভ্রমণকে একসঙ্গে তুলে ধরার পরিকল্পনা করেন তিনি।



এই ভাবনার সূত্র ধরেই মুর্শিদাবাদে গিয়ে মীর জাফরের বংশধরদের খোঁজ করেন সুমন। সেখানে এক হোটেল মালিকের মাধ্যমে মির জাফরের এক বংশধরের বন্ধুত্বের সূত্র পান। পরে কুষ্টিয়ায় থাকা কয়েকজন বংশধরকেও খুঁজে বের করে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন ভিডিওতে।




মুর্শিদাবাদ নিয়ে করা সেই ভিডিও সুমনের ক্যারিয়ারে বড় বাঁকবদল আনে। ওই একটি ভিডিওতেই তার ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার প্রায় ৭০ হাজার বেড়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দর্শক ও আয়। একসময় ইউটিউব থেকে তার আয় চাকরির বেতনের চেয়েও বেশি হয়ে যায়।



২০২১ সালের জুলাইয়ে টেলিভিশনের চাকরি ছেড়ে দেন সুমন। পরে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাজের সুযোগ পেলেও প্রায় নয় মাস পর সেই চাকরিও ছেড়ে দেন। ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে পুরোপুরি কনটেন্ট ক্রিয়েশনে মনোনিবেশ করেন তিনি।




সালাহউদ্দিন সুমনের ইউটিউবে ৩৩ লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার এবং ফেসবুকে ৪৯ লাখের বেশি ফলোয়ার্স রয়েছে।বাংলা ভাষায় ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভ্রমণ ও তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। তার একাধিক ভিডিও মিলিয়ন ভিউ পেয়েছে; এমন একটি ভিডিওও রয়েছে, যেটি এক কোটির বেশি বার দেখা হয়েছে।



নির্বাচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ২টা ৩০ মিনিটে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। সেখানেই ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ
ফ্রান্সে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি

ফ্রান্সে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি