1. ph.jayed@gmail.com : akothadesk42 :
  2. admin@amaderkatha24.com : kamader42 :
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বেদে সম্প্রদায় নিয়ে প্যারিসে তথ্য-চলচ্চিত্র “ভাসমান জীবন” প্রদর্শনী ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন ‘স্মৃতিতে স্মরণে প্রিয় জন্মভূমি’ শিরোনামে প্যারিসে আন্তর্জাতিক কবিতা সন্ধ্যা রাজপথের সাহসী মুখ মমতাজ আলো সংগ্রামী থেকে সফল ব্যবসায়ী মিয়া মাসুদের গল্প ফাতেমা খাতুনের অর্থায়নে ‘আমাদের কথা’র উদ্যোগে ঈদ উপহার বণ্টন ফ্রান্সে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাহিদুলের প্যানেল জয়ী মিয়া মাসুদ: একজন সফল ব্যবসায়ীর পথচলার গল্প মানবতার আলো ছড়াচ্ছে শাহ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ৫৫০ পরিবারের মাঝে ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ শাহ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আগামী ১৭মার্চ প্রকাশক ফাতেমা খাতুনের অর্থায়নে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

বেদে সম্প্রদায় নিয়ে প্যারিসে তথ্য-চলচ্চিত্র “ভাসমান জীবন” প্রদর্শনী ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন

আমাদের কথা ডেস্ক
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

প্যারিসে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, যা উপস্থিত দর্শকদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনুরণিত হবে। শহরের পরিচিত সাংস্কৃতিক ভেন্যু লা ক্যামিলিয়েন (La Camillienne)-এ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বাংলাদেশের বেদে সম্প্রদায়ের জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র “La vie flottante (ভাসমান জীবন)” প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রকাশ রায় ও জয় ব্যানার্জির এই তথ্য-চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে নদীনির্ভর এক ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠীর বাস্তবতা—যা একই সঙ্গে চিন্তার খোরাক জোগায় এবং আবেগে নাড়া দেয়।

প্রদর্শনী শেষে নির্মাতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্ব আয়োজনটিকে আরও প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যময় করে তোলে। দর্শকদের নানা প্রশ্ন ও মতবিনিময়ে প্রামাণ্যচিত্রের বিষয়বস্তু নতুনভাবে অনুধাবনের সুযোগ তৈরি হয়।

প্রামাণ্যচিত্রটি প্রসঙ্গে নির্মাতা প্রকাশ রায় বলেন, বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে বেড়ে ওঠা মানুষের কাছে বেদে সম্প্রদায়ের জীবনযাপন সবসময়ই ছিল কৌতূহল ও আকর্ষণের বিষয়। তবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবে এই ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও পেশায়ও দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তারা কীভাবে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে, তা তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের ঐতিহ্যকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই পরিচালক জয় ব্যানার্জির সহযোগিতায় প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে।

এরপর শুরু হয় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন। কবিতা আবৃত্তি, গান ও নৃত্যের সমন্বয়ে পুরো হলটি রূপ নেয় এক বর্ণিল সাংস্কৃতিক মঞ্চে। প্যারিসের খ্যাতিমান প্রবাসী সংস্কৃতিকর্মীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ফরাসি দর্শনার্থীর উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দেয়।

সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত ও কবিতায় পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলেন কণ্ঠশিল্পী আরিফ রানা, কুমকুম সৈয়দা, মৌসুমি চক্রবর্তী, পাপিয়া পল, নেভি তালুকদার ও সোমতীর্থা বাসু মুখার্জি। আবৃত্তিতে অংশ নেন সাইফুল ইসলাম ও অর্পিতা রায়। নৃত্য পরিবেশনায় ছিলেন সৃজনশীল নৃত্যাঙ্গনের পরিচালক নৃত্যশিল্পী শরিফুল ইসলাম এবং তার শিক্ষার্থীরা, যাদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল—বিদেশি দর্শকদের মধ্যে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠছে।

আয়োজন শেষে দর্শকরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান প্রামাণ্যচিত্রের নির্মাতা জয় ব্যানার্জি ও প্রকাশ রায়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এবং আয়োজকদের, যারা এমন একটি অর্থবহ ও হৃদয়ছোঁয়া সন্ধ্যা উপহার দিয়েছেন। প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির এই ধারাবাহিক চর্চা আরও বিস্তৃত হোক—এমন প্রত্যাশাই সবার।

রাকিবুল ইসলাম, শুদ্ধস্বর ডটকমের ফ্রান্স প্রতিনিধি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই জাতীয় আরো খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Maintained By Macrosys