1. ph.jayed@gmail.com : akothadesk42 :
  2. admin@amaderkatha24.com : kamader42 :
হত্যা মামলার ‘মুক্ত’ আসামি থেকে শিশু অপহরণকারী - আমাদের কথা
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন

হত্যা মামলার ‘মুক্ত’ আসামি থেকে শিশু অপহরণকারী

আমাদের কথা ডেস্ক
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

নিউজ ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকা থেকে ফুলবিক্রেতা জিনিয়া (৯) নামে এক শিশুকে অপহরণের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। নাজমা আক্তার লুপা তালুকদার ওরফে লুপা বেগম (৪২) নামে ওই নারী নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। জিনিয়ার অপহরণ রহস্য উদঘাটনে গতকাল বুধবার লুপাকে আদালতের মাধ্যমে দুদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন ডিবি কর্মকর্তারা।

এদিকে ডিবির হাতে গ্রেপ্তারের পর থেকেই ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লুপাকে নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। এরই মধ্যে তার বিষয়ে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৩ সালে পটুয়াখালীর গলাচিপা থানায় লুপা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা হয়। পরে ২০১৩ সালে ওই মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি লুপা ও তার স্বজনরা ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ রেহাই পান। যদিও স্থানীয়দের কাছে লুপা রাজাকারকন্যা হিসেবেই পরিচিত। তারা বলছেন, লুপার বাবা হাবিবুর রহমান ওরফে নান্না মিয়া তালুকদারসহ পরিবারের আরও দুই সদস্য ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মামলা ও অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টিকে আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসেবে ‘রাজনৈতিক হয়রানি’ দাবি করে তাদের রেহাই পেতে মূল ভূমিকার পালন করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। এ কাজে প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর সহযোগিতাও পেয়েছেন তারা।

গলাচিপা থানায় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাহিনুর নামে এক নারী গলাচিপায় লুপার বাসায় কাজ করতেন। সেই সুযোগে লুপার স্বামী ও ভাই ওই গৃহকর্মীর ওপর নিয়মিত যৌন নিপীড়ন চালাত। পরবর্তী সময়ে শাহিনুর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর লুপা, তার স্বামী, লুপার বাবা ও দুই ভাই মিলে শাহিনুর ও তার শিশুকন্যাকে অপহরণ করে ট্রলারে তুলে শ্বাসরোধে হত্যার পর বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেয়। এ ঘটনার তদন্তে লুপা, তার বাবা প্রয়াত হাবিবুর রহমান ওরফে নান্না মিয়া তালুকদার, তার দুই ভাই প্রয়াত মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে লিটন তালুকদার, মোস্তাইনুর রহমান ওরফে লিকন তালুকদার, লুপার স্বামী রফিকুল ইসলাম বাদল ওরফে শহীদ বাদল, সুজন, হাকিম আলী, সেরাজ মিয়া, আলী হোসেন, ইছাহাক আলী ওরফে ইছছেক আলীসহ বেশ কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্যপ্রমাণ পেয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি হারুন অর রশীদের প্রত্যয়নপত্র নিয়ে লুপা ও তার স্বজনরা এক প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতায় নিজেদের আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হিসেবে প্রচার শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন অধিশাখা-১-এর উপসচিব মো. মিজানুর রহমান গলাচিপা থানার ওই মামলার (মামলা নং-১ তারিখ (১/৬/০৩) ধারা ৩৬৪/৩০২/২০১/৩৪ দণ্ডবিধি) আসামি মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে লিটন, মোস্তাইনুর রহমান ওরফে লিকন, হাকিম আলী, আলী হোসেন ও মোসা. নাজনীন আক্তার ওরফে লুপা বেগমের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন না চালানোর সিদ্ধান্তের কথা পটুয়াখালী জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়ে দেন। এ ঘটনায় সহযোগী একাধিক আসামির সাজা হলেও লুপা ও তার স্বজনরা এ মামলা থেকে অব্যাহতি পান।

গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি হারুন অর রশীদ গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নান্না তালুকদার চিহ্নিত রাজাকার ও লুটেরা ছিলেন। তবে ভুলবশত তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের আওয়ামী লীগের নেকাকর্মী হিসেবে প্রত্যয়ন করা হয়েছিল। আমার সেক্রেটারি গোলাম মোস্তফা টিটুর তথ্যের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে নান্না তালুকদারের ভূমিকা জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার ও জয় বাংলা মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের চেয়ারম্যান নিজামউদ্দিন তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গলাচিপার নান্না তালুকদারসহ ওই পরিবারের তিনজন চিহ্নিত রাজাকার রয়েছেন। যারা পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে এ দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ লুট করেছে। রাজাকারের তালিকায় তাদের সবার নাম আছে।’

ডিবির একাধিক কর্মকর্তা জানান, সাংবাদিক পরিচয়ে লুপা বেগম নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। মাদকসহ নানা ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। তবে জিনিয়া অপহরণের নেপথ্য কাহিনী উদঘাটনই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এজন্যই তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিবির রমনা জোনাল টিমের উপকমিশনার আজিমুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অপহরণকারী নারীকে গ্রেপ্তারকালে তার হেফাজত থাকা শিশু জিনিয়াকে উদ্ধার করা হয়। পরে দুজনকেই কোর্টে হাজির করার পর অপহৃত শিশুকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আর গ্রেপ্তার নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।’ তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লুপা তালুকদার দাবি করেছেন, মেয়েটিকে নিজের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। যদিও এজন্য মেয়ের বাবা-মার কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেননি। বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

ডিবির আরেক কর্মকর্তা জানান, ফুলবিক্রেতা শিশু জিনিয়াকে ফুচকা খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে অপহরণ করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মো. মাহবুব আলম জানান, জিনিয়াকে অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে লুপাকে গ্রেপ্তার করে ডিবির রমনা জোনাল টিম। জিনিয়া টিএসসি এলাকায় ফুল বিক্রয় করত এবং তার মা সেনুয়া বেগমের সঙ্গে টিএসসি এলাকাতেই থাকত। জিনিয়ার মা গত ২ সেপ্টেম্বর মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেন। জিডির তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যমতে জানা যায়, দুজন নারী ফুচকা খাওয়ায় জিনিয়াকে। তাকে নিয়ে টিএসসি এলাকায় ঘোরাফেরা করে। একপর্যায়ে কৌশলে বাসায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সোমবার শাহবাগ থানায় অপহরণ মামলা হয়।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সাংবাদিক পরিচয়ে লুপা বেপরোয়া জীবনযাপন করেন। ‘মোতালেব প্লাজার’ পেছনে একটি ফ্ল্যাটে থাকেন তিনি। বছরখানেক আগে ওই বাসা থেকে লুপার এক ছেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন লুপা বলেছিলেন, ছেলে আত্মহত্যা করেছে। এখন পর্যন্ত লুপার চারটি বিয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। ‘প্রেস লেখা’ একটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন লুপা। সাংবাদিকদের সংগঠনের অনেক নেতার সঙ্গেও রয়েছে তার সখ্য। এসএসসি পাস করা এই নারী নিজেকে ‘অগ্নি টিভির’ কর্ণধার পরিচয়ে অসংখ্য মানুষের কাছে ‘সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র’ বিক্রি করেও অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি পটুয়াখালীর দুই ব্যক্তির কাছ থেকে তার বিরুদ্ধে ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও তথ্য পেয়েছে ডিবির তদন্তকারী দল।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই জাতীয় আরো খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Maintained By Ka Kha IT