1. ph.jayed@gmail.com : akothadesk42 :
  2. admin@amaderkatha24.com : kamader42 :
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বেদে সম্প্রদায় নিয়ে প্যারিসে তথ্য-চলচ্চিত্র “ভাসমান জীবন” প্রদর্শনী ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন ‘স্মৃতিতে স্মরণে প্রিয় জন্মভূমি’ শিরোনামে প্যারিসে আন্তর্জাতিক কবিতা সন্ধ্যা রাজপথের সাহসী মুখ মমতাজ আলো সংগ্রামী থেকে সফল ব্যবসায়ী মিয়া মাসুদের গল্প ফাতেমা খাতুনের অর্থায়নে ‘আমাদের কথা’র উদ্যোগে ঈদ উপহার বণ্টন ফ্রান্সে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাহিদুলের প্যানেল জয়ী মিয়া মাসুদ: একজন সফল ব্যবসায়ীর পথচলার গল্প মানবতার আলো ছড়াচ্ছে শাহ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ৫৫০ পরিবারের মাঝে ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ শাহ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আগামী ১৭মার্চ প্রকাশক ফাতেমা খাতুনের অর্থায়নে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

মালয়েশিয়ায় যেতে নিবন্ধন করা যাবে যেভাবে

আমাদের কথা ডেস্ক
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০২২

নিউজ ডেস্ক: প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ায় আবারও বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার থেকে আগ্রহী শ্রমিকদের নিবন্ধন শুরু হয়েছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বিএমইটি’র মহাপরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় কাজে যেতে ইচ্ছুক এবং দেশটির চাকরিদাতা কর্তৃক বাছাই হতে হলে সব কর্মীকে বিএমইটি’র ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

যেভাবে নিবন্ধন করতে হবে

মোহাম্মদ শহিদুল আলম জানিয়েছেন, দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলায় বিএমইটি’র ৪২টি কার্যালয় এবং ১১টি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হয়ে নিবন্ধন করা যাবে। সে ক্ষেত্রে কর্মীর পাসপোর্ট, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, নিজের মোবাইল নম্বর, যদি ইমেইল তাহলে সেটি, যদি কোনো দক্ষতা সনদ থাকে সেটি সেঙ্গে নিয়ে যেতে হবে।

কেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধন করলে আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে। এসব কেন্দ্রের কর্মীরা আগ্রহী শ্রমিকদের তথ্য নিবন্ধন পোর্টালে সংযুক্ত করে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবেন। এ ছাড়া সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপ ব্যবহার করেও নিবন্ধন করা যাবে।

বিভিন্ন জেলায় বিএমইটি’র কার্যালয়ে সরাসরি উপস্থিত হয়ে নিবন্ধন করা যাবে। কেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধনে ২০০ টাকা ফি দিতে হবে। অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করলে ২০০ টাকার সঙ্গে অতিরিক্ত ১০০ টাকা ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপের সার্ভিস চার্জ হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। দক্ষতা সনদ ছাড়াও ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী যে কেউ নিবন্ধন করতে পারবেন।

কর্মীর একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি হবে। দুই বছরের জন্য নিবন্ধনের কার্যকারিতা থাকবে। এই সময়কালে আগ্রহী কর্মী নিজের সম্পর্কে তথ্য আপডেট ও এডিট করতে পারবেন। নতুন কোনো ডিগ্রি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জন করলে সেই বিষয়ক সার্টিফিকেট আপলোড করতে পারবেন। যারা আগেই বিদেশে যাওয়ার জন্য বিএমইটিতে নিবন্ধিত রয়েছেন তাদের নতুন করে নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। তবে তারাও তথ্য আপডেট করতে পারবেন। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে কর্মীর ফোন নম্বরে একটি বার্তা যাবে।

নিবন্ধনের পর যেভাবে নিয়োগ হবে

বিএমইটি থেকে গত রোববার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেসব কর্মীর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি অথবা অন্য কোনো বৈধ কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ধরনের দক্ষতার প্রশিক্ষণ রয়েছে তারা সেই প্রশিক্ষণের সনদ নিবন্ধনের সময় আপলোড করলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। গত বছর ডিসেম্বরে যখন সমঝোতা স্মারক সই হয় তখন তাতেও কিছু যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম ইংরেজির জ্ঞান। মালয় ভাষার জ্ঞান বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। কিন্তু মালয় ভাষার জ্ঞান জানা না থাকলে তাকে অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। মূলত কৃষি, নির্মাণ, খনি, গৃহকর্ম, বাগান, পরিচ্ছন্নতা কর্মী এসব খাতে কর্মী নিতে চায় মালয়েশিয়া।

মোহাম্মদ শহিদুল আলম বলছেন, কোন খাতে কাজ করতে চান কর্মীকে নিবন্ধনে তা উল্লেখ করতে হবে। নিবন্ধনে যে তথ্য থাকবে তা এজেন্সি ও মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাও দেখতে পাবেন। বিভিন্ন খাতের নিয়োগকর্তা নিবন্ধিত কর্মীদের কেমন যোগ্যতা, বয়স এমনকি ছবিতে চেহারা দেখে সেই অনুযায়ী তাদের কেমন কর্মী দরকার, কত দরকার তা চেয়ে পাঠালে বিএমইটি যে ধরনের পদ চাওয়া হয়েছে, যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে থেকে তার চেয়ে হয়ত দ্বিগুণ নাম পাঠাবে হবে রিক্রুটিং এজেন্সির কাছে। তারা কর্মী বাছাই করে ওই কাজের জন্য যা যা করতে হয়, প্রশিক্ষণ, মেডিকেল পরীক্ষা করাবেন। যারা বাদ পড়বেন তাদের নাম আবার নিবন্ধিত তালিকায় ফেরত যাবে।

একবার নিয়োগ চূড়ান্ত হয়ে গেলে ভিসার আবেদন পাঠাবে এজেন্সি। মালয়েশিয়া থেকে নিয়োগদাতা বিমান টিকেট পাঠাবেন। ২০১৮ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ। তবে বাংলাদেশ অংশের স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ কর্মীকে বহন করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার যারা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত হবেন, মালয়েশিয়া সরকার যদি সেগুলো নির্বাচন করে শুধু তারাই মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা করতে পারবেন।

মালয়েশিয়া পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি কর্মীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ, ইনস্যুরেন্স-সংক্রান্ত খরচ, মানসম্মত আবাসন, বিমা, চিকিৎসা ও কল্যাণ ইত্যাদি সেখানকার নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি বহন করবে। এক এক খাতের বেতন এক এক রকম।

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘নিবন্ধন প্রক্রিয়া আসলে সিভি আপলোড করে রাখার মতো। যা বিএমইটি, এজেন্সি, মালয়েশিয়ায় নিয়োগদাতা কোম্পানি সবাই দেখতে পাবেন। কর্মী যখন একবার বুঝবেন যেকোনো ধরনের দক্ষতা থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যায় তখন সে নিজেই প্রশিক্ষণ নেবে। কয়দিন পরে ক্লিনারের কাজেও নানা মেশিন ব্যাবহারের দক্ষতা লাগবে। না হলে কেউ নিয়োগ পাবে না।’

বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজার হিসেবে মালয়েশিয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। দুর্নীতি আর অনিয়মের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ থেকে দুবার কর্মী নেওয়া বন্ধ করে মালয়েশিয়া। সর্বশেষ ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ রয়েছে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার সরকার কর্মী প্রেরণ বিষয়ক একটি সমঝোতা স্বারক সই করে।

অবশেষে চলতি জুন মাসের দুই তারিখ বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ এবং মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম সারাভানানের উপস্থিতিতে ঢাকায় দুই দেশের একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে বিষয়টির এক ধরনের সুরাহা হয়। নিদিষ্ট সংখ্যায় এজেন্সির উল্লেখ না থাকলেও মালয়েশিয়া শুধুমাত্র তার পছন্দমতো এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নেবে সেই সিদ্ধান্ত হয়।

তবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি বলছে যে ১২টি দেশ থেকে মালয়েশিয়া কর্মী নিয়ে থাকে তাদের কোনটির ক্ষেত্রেই রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচনের বিষয়টি এমন নয় যেমনটা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চাওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই জাতীয় আরো খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Maintained By Macrosys