1. ph.jayed@gmail.com : akothadesk42 :
  2. admin@amaderkatha24.com : kamader42 :
বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন

সব দোষ কি প্রবাসীদের ?

আমাদের কথা ডেস্ক
  • আপডেট : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০
বিশ্বজুড়ে এখন সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসে ইতিমধ্যে প্রান গেছে সাড়ে আঠারো হাজারের উপর । আক্রান্তে সংখ্যা সোয়া চার লাখ আর সুখবর সুস্থ প্রায় এক লাখের উপর । কিন্তু বাংলাদেশে এখন কোরোনা ভাইরাসের চেয়ে বড় আতঙ্ক নাম প্রবাসী । বাংলাদেশে প্রবাসীদের নিয়ে যা হচ্ছে তা কোন ভাবেই মানবিক বাংলাদেশের চেহারা হতে পার না । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন জায়গায় ট্রল হচ্ছে, প্রবাসীর হাতে শীল মারা, যেটা হিটলার করেছিলো ইহুদিদের সাথে । প্রবাসীদের বাড়ীতে লাল ঝান্ডা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে । চায়ের দোকান সহ মিষ্টির দোকানে পোস্টার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে এখানে প্রবাসীদের প্রবেশ নিষেধ । এমনকি শিক্ষিত সচেতন শ্রেণীর লোক ডাক্তারের চেম্বারে নোটিশ, এখানে প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রবেশ নিষেধ । পুলিশও নোটিশ দিয়েছে আপনার এলাকায় কোন প্রবাসী থাকলে আমাদের খবর দিন । মনে হচ্ছে প্রবাসীরা বড় ধরনের চিহ্নিত তালিকা ভুক্ত আসামী । আবার প্রবাসী হবার কারনে একজনকে গণ পিটুনি দিয়েছে জনগণ ।
করোনাভাইরাসে ভয়াবহ আক্রান্ত আমেরিকা, জার্মানী, কানাডা সহ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত । এত খারাপ অবস্থার মধ্যেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের দেশের নাগরিকদের নিয়ে উদ্বিগ্ন । তাদের ফিরিয়ে আনতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে । পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ইতালিতে আটকে পড়া ২১১ ভারতীয়কেও বিশেষ বিমানে দেশে ফিরিয়ে এনেছে । শুধু তাই নয়, বিদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের জনে জনে ফোন করে খোঁজ নিচ্ছে ভারতীয় সরকার । বাংলাদেশের বেলাই তার উল্টা, ঢালাওভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে এই দেশেই নাগরিক প্রবাসীদের। অথচ বাংলাদেশে প্রবাসী আয় ছাড়া আর কোন অর্থনৈতিক সূচকই ঊর্ধমূখী নয় । সব সূচকই নিম্নমুখী । প্রবাসীরা অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে থাকে দেশে যাবার। হঠাৎ করে প্রবাসীরা দলে দলে দেশে ফিরছে তাও কিন্তু নয় । তারা দেশে ফেরবে এটা তাদের মৌলিক অধিকার। তারা ফিরেছে। তাদের নিরাপদ রাখার দায়িত্ব কার ? বিমানবন্দরে তাদের পরীক্ষা নিরিক্ষা ব্যবস্থা করা। প্রবাসীদের সেখানে আলাদা রেখে টেস্ট করা, সনাক্ত করা, হজক্যাম্পের ভিতর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে উপযুক্ত কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা কাদের দায়িত্ব ছিল ? মন্ত্রী মহোদয় বললেন, আমাদের দৈন্যতা আছে প্রবাসীদের তা বুঝতে হবে । হজক্যাম্পের ভেতর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী করা কি খুব খুব দৈন্যতার মধ্যে পড়ে ? বিমানবন্দরে অধিকাংশ প্রবাসী ও অন্যান্য যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরিক্ষা ছাড়া টাকা নিয়ে ছেড়ে দিল কে ? এই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নেয়া হোক । বিমানবন্দরে সীমাহীন প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছিল । প্রশাসনিক ব্যর্থতা আড়াল করতেই দোষ দেয়া হচ্ছে প্রবাসীদের ।
২০১৮ সালের তথ্যমতে শুধু শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৯ হাজার ৮৩৩ জন যাত্রী দেশে ফিরেছে । ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ১৬৬ জন। প্রতিদিন আসা–যাওয়া করেছে যারা তারা কি সবাই প্রবাসী ? রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, বিদেশী নাগরিক সহ সব শ্রেণীর মানুষ বিমানবন্দর দিয়ে আসা–যাওয়া করছে। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে অনেক রাজনীতিবিদ ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বিদেশ থেকে ফিরেছেন তাদের নাম নাইবা লিখলাম। ফ্লাইটগুলোর বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও আছে। এদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলো না কেন ? ভিআইপি বলে করোনা ভাইরাসের জীবাণু এরা বহন করে নি? না শুধু প্রবাসীরাই ভাইরাস বহন করে নিয়ে এসেছে ।
এখন আবার নতুন করে শুরু হয়েছে গ্রামে গ্রামে প্রবাসীদের খোঁজা । যারা ১ মাস আগে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারী মাসে দেশে গিয়েছিল তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনের কথা বলা হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে । অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বাইরে থেকে কেউ এলে লক্ষণ-উপসর্গ না থাকলেও যদি উনার শরীরে জীবাণু থাকে, তাহলে সেটি ১৪ দিনের মধ্যে প্রকাশ পাবে। সেজন্যই ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইন । ফেব্রুয়ারী বা মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে আসা প্রবাসীদের হয়রানী করা হচ্ছে কেন এখন ? এদের শরীরে করোনার জীবাণু থাকলে এতো দিনে প্রকাশ পেত । পত্রিকায় এসেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইনে ইতালি ফেরত প্রবাসী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে গুজব ছড়িয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে। এই মহামারীর সময় কি হচ্ছে দেশে ? বাংলাদেশের অর্থনীতি যে কয়টি ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে তার বড় একটি প্রবাস আয় । যদিও এই প্রবাসীরা তাদের নিজেদের জন্য বিদেশে এসে আয় করে পরিবার পরিজনকে দিচ্ছে । কিন্তু আল্টিমেটলি এ থেকে দেশের বড় একটি উপকার হয় সেটা হলো বৈদেশিক মুদ্রার রিভার্স বৃদ্ধি। কিছু প্রবাসীরা কোয়ারেন্টাইন মেনে চলেন নি এটা অস্বীকার করার উপায় নেই । তবে বিমানবন্দর থেকে তাদের দিক নির্দেশনা দেয়া হয় নি । বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ চরম চরম গাফিলতি ছিল এটাও স্বীকার করতে হবে । একতরফা প্রবাসীদের দোষ দিলে হবে না । প্রবাসীরা আতঙ্কের নাম নয় । প্রবাসীরা সবসময় চান তারা যেই দেশে থাকেন সেই দেশের মত উন্নত, সমৃদ্ধিশালী ও দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ ।
মোহা. আব্দুল মালেক হিমু
সংবাদকর্মী ও সাধারণ সম্পাদক
ফ্রান্স বাংলা প্রেসক্লাব

নিউজটি শেয়ার করুন

এই জাতীয় আরো খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Maintained By Ka Kha IT