1. ph.jayed@gmail.com : akothadesk42 :
  2. admin@amaderkatha24.com : kamader42 :
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

প্রণোদনার টাকা দ্রুত ছাড়ের তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা

আমাদের কথা ডেস্ক
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২০

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের টাকা দ্রুত ছাড়ের তাগিদ দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের মতে, সব প্যাকেজই ব্যাংকের অর্থায়ননির্ভর। তাই দেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে ব্যাংকগুলোর উচিত মুনাফার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে দ্রুত অর্থ ছাড় করা। এক্ষেত্রে যত কালক্ষেপণ হবে ততই প্যাকেজের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যাংকের পাশাপাশি সরকারকেও নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থের জোগান দেয়া উচিত।

বুধবার মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ব্যবসায়ী নেতারা এ কথা বলেছেন। এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের সভাপতিত্বে অনলাইন কনফারেন্সে সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি) অংশ নেন।

আলোচনায় এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি মীর নাসির বলেন, ‘প্যাকেজ বাস্তবায়নে এবিবির (অ্যাসোসিয়শন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ) সমন্বিত গাইডলাইন দেয়া উচিত। কারণ অর্থ ছাড়ে যত কালক্ষেপণ হবে ততই প্যাকেজের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। শুধু সুখের সময় সাথী হিসেবে নয়, ব্যাংকের উচিত ব্যবসায়ীদের দুঃসময়ের সাথী হওয়া। সময় থাকতে প্যাকেজ বাস্তবায়ন না করলে পরে তা আর কাজে আসবে না।’

সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারগুলোতে কিছু সমস্যা আছে। এগুলো কমিয়ে আনতে হবে। যেমন ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে প্রচ্ছন্ন রফতানিকারক ও টেক্সটাইল খাতকে বাদ দেয়া হয়েছে, যা সমীচীন হয়নি।’ তিনি বলেন, সব প্যাকেজ এসেছে ব্যাংকের ফাইন্যান্সের ওপর। সরকারকেও সরকারি তহবিল থেকে অনুদান দেয়া প্রয়োজন।

এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যাংক সহযোগিতা না করলে এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা কঠিন হবে। ব্যবসা চালু থাকলে ব্যাংক ব্যবসা করতে পারবে। আর ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে ব্যাংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনেক সময় চলে গেছে। প্যাকেজ বাস্তবায়নে দেরি হলে সুফল আর পাওয়া যাবে না।’

সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যেন আইন বা কাগজের জটিলতায় প্রণোদনা থেকে অর্থ পেতে কোনো জটিলতায় না পড়েন, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা দরকার। এসব ব্যবসায়ীর সহযোগিতার জন্য এফবিসিসিআইতে ‘হেল্প ডেস্ক’ স্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া প্রণোদনা প্যাকেজের সঠিক বাস্তবায়নের জন্য এনবিআর, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, এফবিসিসিআই এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় খুব জরুরি বলে মত দেন।

সংগঠনটির পরিচালক সালাউদ্দিন আলমগীর বলেন, ‘সারাজীবন ব্যাংক প্রফিট করেছে, শেয়ারহোল্ডারদের ৩৫ শতাংশ ডিভিডেন্ট দিয়েছে। এখন সময় এসেছে ব্যাংকগুলোর গ্রাহকের পাশে দাঁড়ানোর। শুধু মুনাফার কথা ভাবলে সবারই টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়বে।’

ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন এবিবির সভাপতি আলী রেজা ইফতেখার বলেন, ‘করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলো সময়োপযোগী। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তার কারণে ব্যাংকগুলোতেও তারল্য সংকট নেই। তবে ঋণের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। কারণ ব্যাংক যে বিনিয়োগ করবে সেটি জনগণের টাকা।’ তিনি বলেন, ‘এজন্য উন্নত বিশ্বের মতো ক্রেডিট রিস্ক স্কিম চালু করা যেতে পারে।’

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের জারিকৃত সার্কুলারে কিছু ভুল বোঝাবুঝি আছে। যেমন রিফাইন্যান্স স্কিমের টাকা আদায় করতে না পারলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নিয়ে যাবে। এসব বিষয়ে নজর দেয়া দরকার।’

ব্র্যাক বাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ‘গত ৪০ দিনে বাংলাদেশ ব্যাংক ৭০টির বেশি সার্কুলার জারি করেছে। এক দিনেই একাধিক সার্কুলার হয়েছে, আবার সংশোধনও হয়েছে। নীতি প্রণয়নের আগে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করলে এ ধরনের সমস্যা হতো না।’ তিনি বলেন, ‘ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম গঠন করা গেলে ব্যাংকগুলো এসএমইতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারবে।’

আইএফসির সাবেক জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ মাশরুর রিয়াজ বলেন, করোনা থেকে উতরাতে ব্যাংকগুলোকে ভূমিকা রাখতে হবে। করোনা দীর্ঘায়িত হলে প্যাকেজের হিসাব পাল্টে যাবে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সব প্যাকেজের অর্থায়নই ব্যাংকনির্ভর। এসব প্যাকেজের পাশাপাশি উন্নত বিশ্বের মতো করোনা প্রভাব পর্যালোচনা করে সরকারের আরও অনুদান দেয়া উচিত। ভারত, আমেরিকা এ ধরনের মডেল অনুসরণ করছে।

স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন তদারকির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের স্পেশাল মনিটরিং ইউনিটকে (এমএমইউ) দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে এ ইউনিটকে পুনর্গঠন করা যেতে পারে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় অর্থ, বাণিজ্য, শিল্প, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এফবিসিসিআই’র সমন্বয়ে ওয়ার্কিং গ্র“প গঠনের পরামর্শ দেন তিনি। আলোচনায় আরও অংশ নেন – এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, মাতলুব আহমাদ, শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন, সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, জনতা ব্যাংকের এমডি আবদুস সালাম আজাদ, এসএমই ফাউন্ডেশনের এমডি শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই জাতীয় আরো খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Maintained By Ka Kha IT