1. ph.jayed@gmail.com : akothadesk42 :
  2. admin@amaderkatha24.com : kamader42 :
মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ০৯:৫১ অপরাহ্ন

রেকর্ড প্রার্থী: লন্ডনে মেয়র নির্বাচন আজ

আমাদের কথা ডেস্ক
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১

নিউজ ডেস্ক: বৃটেনের রাজধানী লন্ডন দেখতে যাচ্ছে মেয়র হিসেবে নতুন কোনো মুখ! এর ফয়সালা আজ। স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় লন্ডনে মেয়র নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে। করোনা মহামারির কারণে জরুরি ভিত্তিতে করোনাভাইরাস অ্যাক্ট ২০২০-এর অধীনে ইংল্যান্ডজুড়ে স্থানীয় সব নির্বাচন স্থগিত ছিল এক বছর। এর ফলে ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সাদিক খান বাড়তি এক বছর মেয়াদ ভোগ করছেন। তিনি আবারও এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫ই মে পর্যন্ত দ্বিতীয় দফা জনমত জরিপে তিনি শতকরা ৬২ ভাগ জনপ্রিয়তা নিয়ে এগিয়ে ছিলেন। পক্ষান্তরে তার প্রতিপক্ষ রক্ষণশীল দলের শাউন বেইলিকে সমর্থন করেছেন শতকরা ৩৮ ভাগ। এমন অবস্থায় এ বছর নির্বাচন হচ্ছে।
৬০ লাখ নিবন্ধিত ভোটার তাদের মাঝ থেকে একজনকে বেছে নেবেন লন্ডনের মেয়র হিসেবে। এর আগে ২০১৬ সালে সর্বাধিক সংখ্যক ১২ জন প্রার্থী লন্ডনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাই স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে সেখানে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে রাত ১০টায় শেষ হওয়ার কথা।

উল্লেখ্য, এই নির্বাচনের মাধ্যমে লন্ডনবাসী তাদের নতুন মেয়র নির্বাচনের পাশাপাশি টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র পদ্ধতি কি হবে তা নিয়ে ‘হা’ ‘না’ ভোট দেবেন। সাধারণত প্রতি চার বছর পর পর দেশটিতে মেয়র নির্বাচন হয়। কিন্তু করোনার কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এক বছর ক্ষমতায় ছিলেন সাদিক খান। এরপরই বহু প্রত্যাশিত এই নির্বাচন নিয়ে মানুষের মাঝে বাড়তি আগ্রহ দেখা গেছে। বিশেষ করে বাঙালিদের মাঝে আগ্রহ একটু বেশিই। এবারে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রার্থী বর্তমান মেয়র সাদিক খান, করজারভেটিভ (টোরি) দলের শাউন বেইলি, গ্রিন পার্টির সায়ান বেরি, লিবডেমের লুইসা পোরিট, রিক্লেইম পার্টির অভিনেতা লরেন্স ফক্স, উইমেনস ইক্যুয়ালিটি পার্টির মান্ডু রিড, ইউকিপ-এর পিটার গ্যামনস, বানিং পিস্ক-এর ভ্যালেরি ব্রাউন, রিজিওন ইইউ-এর রিচার্ড, এনিম্যাল ওয়েলফেয়ার পার্টির ভেনেসা হাডনস, সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির স্টিভ কেলহির, লন্ডন রিয়েল পার্টির ব্রায়ান রোজ ও হেরিটেজ পার্টির ডেভিট কাটেন। এছাড়াও প্রার্থী হয়েছেন সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিনের ভাই পিয়েরস করবিন, স্বতন্ত্র ম্যাস্ক ফশ, স্বতন্ত্র ফারাহ, নিমস ওবুং, নিকো ওমিলানা। যে কোন প্রার্থী প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে ৫% এর বেশী ভোট না পেলে জামানত (১০,০০০ হাজার) হারাবেন।

উল্লেখ্য, লন্ডনের বর্তমান মেয়র সাদিক খান এর আগে টটিং থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি ছিলেন এবং তিনি একজন মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী। এ ছাড়া ৫০ বছর বয়সী সাদিক খান বৃটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের অধীনে একজন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বৃটেনের মন্ত্রীপরিষদে প্রথম মুসলিম হিসেবে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। এবার নতুন করে নির্বাচনে তিনি কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ঘোষণা দিয়েছেন পর্যটনখাতকে সমৃদ্ধ করবেন। রাজধানী লন্ডনে বিনিয়োগকে জোরালোভাবে দেখবেন। বিশেষ করে তিনি লন্ডনে করোনা মহামারির সময়ে যেসব মানুষ কাজ হারিয়েছেন কমপক্ষে তাদের তিন লাখ মানুষকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে শাউন বেইলি অপরাধের দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন। বিশেষ করে সম্প্রতি লন্ডনে যে ছুরিহামলা বৃদ্ধি পেয়েছে সেদিকে তিনি দৃষ্টি দিয়েছেন। লকডাউনের সময়ে এই ছুরিহামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। শাউন বেইলি পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং লোকজনকে থামিয়ে তাদেরকে তল্লাশির মাধ্যমে অপরাধ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এটা রয়েছে নির্বাচিত হলে প্রথম ১০০ দিনের কর্মতালিকায়। এছাড়া তিনি স্ক্যান এবং তল্লাশি বিষয়ক প্রযুক্তি চালু করার কথা বলেছেন।

২০১৬ সালে সর্বশেষ লন্ডনে মেয়র নির্বাচন হয়। সে সময় দেশটির প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রার্থী সাদিক খান (পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত) বিজয়ী হন। এবারের নির্বাচনেও জরিপে তিনি এগিয়ে রয়েছেন। তবে নির্বাচনে ফল পাল্টে যেতে পারে সাদিক খানের মেয়র থাকাকালীন কিছু পদক্ষেপের কারণে। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৬ সালে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অনেকটা রক্ষা করতে পারেননি তিনি। এর মধ্যে কাউন্সিলের ঘর বৃদ্ধি করতে না পারা অন্যতম। এছাড়াও ‘নাইফ ক্রাইম’ বৃদ্ধির কারণে মানুষ তার উপর ক্ষুব্ধ। কনজাংশন চার্জ বৃদ্ধি করায় বিপুল ভোটার তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। হাবিব নামে একজন মিনিক্যাব ডাইভার বলেন, আমি সাদিক খানকে ভোট দেব না। কারণ উনি আমাদের জন্য চার্জ লাগালেও ব্লাক ক্যাব ডাইভারদের জন্য ফ্রি রেখেছেন। একই কথা বলেন মতিন নামে এক মিনিক্যাব চালক।

তা সত্ত্বেও লন্ডনে লেবার পার্টির অবস্থান শক্ত হওয়া জরিপে সাদিক খান এগিয়ে রয়েছেন এবং নির্বাচনী বার্তা তার পক্ষে রয়েছে। লুচিলিয়া ব্রাকুলি নামে এক শিক্ষক অন্য পার্টি সমর্থন করলেও মেয়র নির্বাচনে তিনি সাদিক খানকেই ভোট দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এবার নির্বাচন জরিপ বলছে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সাদিক খান ও শাউন বেইলি’র মধ্যে। তবে সময়ই বলে দেবে কে হাসবেন বিজয়ের হাসি।

এদিকে, লন্ডন মেয়র নির্বাচনের পাশাপাশি বাংলাদেশী অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস আজ এ মেয়র পদ্ধতি থাকবে কি থাকবে না, তা নিয়ে ‘হা’ ‘না’ ভোট হচ্ছে। মেয়র পদ্ধতি বিলোপের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে কনজারভেটিভ, লেবার, লিবারেল ডেমোক্রেটস ও গ্রীন পার্টি। একই সাথে ইয়েস ফর মেয়র সিস্টেম বহালের জন্য মাঠে নেমেছিলেন সাবেক মেয়র লুতফুর রহমানসহ বিভিন্ন সামাজিক, ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ। প্রায় ১০ বছর আগে একইভাবে ভোটররা গণভোটের মাধ্যমে মেয়র সিস্টেম চালু করেছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই জাতীয় আরো খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Maintained By Ka Kha IT