1. ph.jayed@gmail.com : akothadesk42 :
  2. admin@amaderkatha24.com : kamader42 :
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংগ্রামী থেকে সফল ব্যবসায়ী মিয়া মাসুদের গল্প ফাতেমা খাতুনের অর্থায়নে ‘আমাদের কথা’র উদ্যোগে ঈদ উপহার বণ্টন ফ্রান্সে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাহিদুলের প্যানেল জয়ী মিয়া মাসুদ: একজন সফল ব্যবসায়ীর পথচলার গল্প মানবতার আলো ছড়াচ্ছে শাহ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ৫৫০ পরিবারের মাঝে ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ শাহ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আগামী ১৭মার্চ প্রকাশক ফাতেমা খাতুনের অর্থায়নে ঈদ সামগ্রী বিতরণ আগামী ১৭মার্চ প্রকাশক ফাতেমা খাতুনের অর্থায়নে ঈদ সামগ্রী বিতরণ প্যারিসের সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন শাহ গ্রুপের ইরানের পাশে থেকে যেভাবে সহায়তা করছে রাশিয়া

মিয়া মাসুদ: একজন সফল ব্যবসায়ীর পথচলার গল্প

আমাদের কথা ডেস্ক
  • আপডেট : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬

২০০৮ সালে ফ্রান্সে পাড়ি জমান মিয়া মাসুদ। চোখে মুখে ছিল হাজারও স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বুনতে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিলেও নানা রকম চ্যালেঞ্জের হিসাব নিকাশ গুনতে হয় তাকে। শুরুটা সহজ না হলেও অভিজ্ঞতা আর পরিশ্রমের মেলবন্ধনে তিনি গড়ে তুলেছেন তার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান বিডি ফার্নিচার।

মিয়া মাসুদের জন্ম ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার হরজতপুর ইউনিয়নের আলগীর চরে। প্রবাসী জীবনে শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত দিনগুলো আজও খুঁজে ফেরেন তিনি। এবার জীবনের বাঁকবদলের গল্প শোনালেন প্রবাসী ব্যবসায়ী মিয়া মাসুদ।

 

প্রবাসে ব্যবসায়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি বললেন, ব্যবসায়ে প্রথম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় অর্থের যোগান। এছাড়া জায়গা নির্বাচন করাও একটি বড়সড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন মাসুদ। তাছাড়া প্রবাসে কর্মী নির্বাচন করাও বেশ কৌশলের ব্যাপার। এখানে আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। কর্মীর ভালো কাজ জানলেই হবে না তার ফ্রান্সের বৈধতা থাকতে হবে। দেশের প্রেক্ষপটে ব্যবসা যতটা সহজ প্রবাসে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই সামনে আগাতে হয়।

মাসুদ মিয়ার বিডি ফার্নিচারের বিশেষত্ব কী? তার কথায়, সবার প্রথমে আমি বিশ্বাস করি ব্যবসায়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। আর ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জনতো রয়েছেই। ফার্নিচারের অনেক শপইতো আছে, সবাই কেন আমারটাতে আসবে? যদি মান ঠিক থাকে আর সার্ভিস ভালো হয় তাহলে অনায়াসে রিপিট কাস্টমার বাড়বে। আমি এই নীতিতে বিশ্বাস করে ব্যবসা এগিয়ে নিচ্ছি।

 

 

ব্যবসায়ের সফলতা বলতে কী বোঝেন মিয়া মাসুদ? তিনি বললেন, আমার মনে হয় ক্রেতা সাধারণ হলো আমাদের শক্তি। তাদেরকে নিয়েই প্রসার-উন্নতি। তাই ক্রেতাকে কোনো ভাবেই ঠকানো যাবে না, প্রতারণা করা যাবে না। পণ্য পছন্দ করা ক্রেতার দায়িত্ব কিন্তু গুণগত মান বজায় রাখা একজন বিক্রেতার ওপরেই বর্তায়। তাই ব্যবসায়ের বড় সফলতা হলো ক্রেতাকে সঠিক পণ্য নিশ্চিত করা। সর্বশেষ পর্যন্ত সঠিক সেবা নিশ্চিত করাই ব্যবসার সফলতার মূলমন্ত্র বলে মনে হয় আমার কাছে।

 

 

ব্যবসা শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে তিনি তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন। মিয়া মাসুদ বলেন, সম্ভবত ২০০৯ সালের ঘটনা। আমি নিজের জন্য ফার্নিচার কিনতে যাই ফ্রান্সের একটি ফার্নিচার শপে। জিনিস দেখে পেমেন্ট করার পর আমাকে অন্যটি বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছিল। পরে আমার পছন্দ করা পণ্যটি নিতে আবার ডাবল পেমেন্ট করা লাগে। সেই থেকে আমি প্রতিজ্ঞা করি বাংলাদেশিরা যেন প্রবাসে এসে প্রতারিত না হন তাই আমি ফার্নিচারের ব্যবসায়-ই বেছে নিই। আমি যখন ব্যবসা শুরু করি তখন কোনো বাংলাদেশির ফার্নিচারের শপ ছিল না। আমিই প্রথম উদ্যোগ নিই। আমার স্বপ্ন ছিল সকল বাংলাদেশির ফার্নিচারের চাহিদা পূরণ করবো আমি। তবে এখন বাংলাদেশিসহ পাকিস্তান, আফগানিস্তান, শ্রীলংকান, ভারতীয়সহ অনেকেই আমাদের বিডি ফার্নিচারের কাস্টমার।

ব্যবসায়ে প্রতিযোগিতার জায়গা নিয়ে তিনি জানালেন, আমি প্রতিযোগিতার জায়গাটা খুবই আনন্দের সঙ্গে নেই। ব্যবসায়ে প্রতিযোগিতা থাকলে শেখার আগ্রহ থাকে, এর থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। আমি মনে করি এটি ব্যবসায়ের ইতিবাচক দিক। এটি সবার জন্যই নিজেকে ঋদ্ধ করার পথ খুলে দেয়।

রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে মিয়া মাসুদ বলেন, প্রবাসে যারা থাকেন তারা অনেক কষ্টের মাধ্যমে টাকা উপার্জন করেন। তারা সবসময় চায় নিজের প্রিয় দেশটা সুন্দর থাকুক, ভালো থাকুক। পরিবারকে অনেক কষ্ট করে তারা টাকা পাঠায়। এতে একটি পরিবার যেমন বাঁচে তেমনি সমাজের উন্নতিও সাধন হয়। এছাড়া খেয়াল করলে দেখা যাবে দেশের কিংবা নিজ এলাকার নানা রকম উদ্যোগে, উন্নয়ন কাজে প্রবাসীদের কন্ট্রিবিউশন থাকে। তারা এগুলো ভালোবেসেই করেন। দেশের মানুষও প্রবাসীদের অবদান স্বীকার করে বলেই আমার বিশ্বাস।

 

দেশের কোন জিনিসগুলো অনুভব করেন তিনি? আবেগের সুরেই মিয়া মাসুদ জানালেন, দেশের সব জিনিসই সবসময় মিস করি। দেশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো অনেক বেশি টানে আমাকে। এছাড়া আত্মীয় স্বজনের নানা রকম ওকেশনগুলো মিস হয়ে যায়। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো আপনজনের মৃত্যু! মৃত্যুর সময় আমরা পাশে থাকতে পারিনা। এর থেকে বড় কষ্ট আর কী হতে পারে?

প্রবাসে নতুন ব্যবসা শুরু করতে হলে তাদের জন্য পরামর্শ হিসেবে তিনি জানালেন, প্রবাসে হোক আর দেশেই; যেকোনো ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই ধারণা রাখতে হবে। প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে সে বিষয়টি নিয়ে। সঠিক জ্ঞান ছাড়া ব্যবসায়ে উন্নতি কোনোভাবেই সম্ভব হবে নয়। শুরুর দিকে প্রচুর কষ্ট করার মানসিকতা থাকতে হবে। শ্রমের বিকল্প আর কিছুই হতে পারে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই জাতীয় আরো খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Maintained By Macrosys