1. ph.jayed@gmail.com : akothadesk42 :
  2. admin@amaderkatha24.com : kamader42 :
বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন

মার্কিন নির্বাচন: ফল পেতে কয়েকদিনের অপেক্ষা

আমাদের কথা ডেস্ক
  • আপডেট : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের রাজনীতি ও অর্থনীতির ভরকেন্দ্র। দেশটির নির্বাচনের দিকে তাই পুরো বিশ্বেরই নজর থাকে। এবারও স্বাভাবিকভাবে এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছেন সবাই। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের মধ্যকার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে বিজয়ী হন, তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বিশ্বনেতারা। এই উদ্বেগে আরও জ্বালানি দিচ্ছে ফল নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন টাইমজোন অনুযায়ী রাত ৮টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন; কে হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট তা জানতে ভোট শেষ হওয়ার পর কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। এমনকি কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

করোনার কারণে ১০ কোটির বেশি আগাম ভোট পড়েছে। আগাম ভোটের কারণেই এমন পরিস্থিতি। সব ভোট গণনা শেষ হতে অনেক দেরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আলাদা সময়ে ভোটগ্রহণ শেষ ও গণনা করার নিয়মও কাজ করছে এ ক্ষেত্রে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ভোট গণনার কাজে অনেক সময় লেগে যেতে পারে। সাধারণত নির্বাচনের রাতে সব ভোট গণনা শেষ না হলেও কে বিজয়ী হতে যাচ্ছেন, সে সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম হতে পারে। কারণ এবারের মার্কিন নির্বাচন নজিরবিহীন।

 

আর বেশি ভোট পাওয়া মানেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া নয়। জিততে হয় ইলেকটোরাল কলেজে। জনসংখ্যার বিচারে প্রতিটি রাজ্যের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেয়ার যোগ্য বলে নির্বাচিত হন। কমপক্ষে ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে হয়।

২০১৬ সালে নির্বাচনের রাতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী বলে জানা গিয়েছিল। কারণ উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ভোট মিলে তার ২৭০ ইলেকটোরাল ভোট নিশ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু এবার তা হবে না বলেই পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে তৈরি হতে পারে জটিলতা। এমনকি আইনি লড়াইও।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এ বছর অনেক বেশি মানুষ ডাকে অথবা ব্যক্তিগতভাবে আগাম ভোট দিয়েছেন। ডাকে পাওয়া ভোট গণনা করতে সাধারণত বেশি সময় লাগে। কারণ সেগুলোর স্বাক্ষর, ঠিকানাসহ নানা যাচাই-বাছাই করতে অনেক ধাপ পার করতে হয়।

ফ্লোরিডা ও ওহাইওর মতো কয়েকটি রাজ্য এসব প্রক্রিয়া নির্বাচনের সপ্তাহ খানেক আগে থেকে শুরু করে; যাতে ভোটগুলো গণনার কাজ শেষ হয়ে যায়। এসব রাজ্যে নির্বাচনের রাতেই বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে, যদিও সেটা নির্ভর করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা জোরালো হয়, তার ওপরে।

কিন্তু পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিনের মতো অনেক রাজ্যে নির্বাচনের দিনের আগে আগাম ভোটের গণনা করা হয় না। এসব রাজ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভোট গণনা শেষ হতে কয়েকদিন পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।

এই রাজ্যগুলোর প্রাথমিক ফলে এগিয়ে থাকতে পারেন রিপাবলিকান ট্রাম্প। বেশিরভাগ রিপাবলিকান সমর্থক নির্বাচনের দিন ভোট দেবেন বলে ধারণা। ফলে এসব ভোট দ্রুত গণনা করা সম্ভব।

এদিকে যেসব রাজ্য আগেই আগাম ভোট গণনা সম্পন্ন করেছে কিংবা নির্বাচনের রাতে গণনা শেষ হবে সেসব রাজ্যের প্রাথমিক ফলাফল জো বাইডেনের পক্ষে যেতে পারে। কারণ যারা আগাম ভোট দিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট ভোটার।

তাই নির্বাচনী কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, আগাম ফলাফলে পুরো চিত্রটি নাও বেরিয়ে আসতে পারে। মহামারির কারণে এ বছর আগাম ভোট পড়েছে বেশি। ২০১৬ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার ডাকযোগে দ্বিগুণ ভোট পড়েছে বলেই ধারণা। ভোট গণনা ও ফল প্রকাশে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই আছে আলাদা প্রক্রিয়া।

নয়টি অঙ্গরাজ্যের ভোট গ্রহণের শেষ সময় ও গণনার সময় ভিন্ন। সেসব এখানে এগুলো তুলে ধরা হল-

ফ্লোরিডা : এ রাজ্যে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে নির্বাচন পূর্ব বা আগাম ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এসব ভোটের গণনা শুরু হয় নির্বাচনের দিন। ডাকযোগে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ভোট দেয়া যায়। এ দিন রাত ৮টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। প্রথমে আগাম ভোট গণনা করা হয়। এখানে নির্বাচনের রাতেই ভোট গণনা শেষ করা হয়।

জর্জিয়া : এখানে ১৯ অক্টোবর থেকে আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্বাচনের দিন সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। একই দিন আগাম ব্যালট গণনা করা হয়। এই রাজ্যটিতে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ডাকে ভোট দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

টেক্সাস : এ অঙ্গরাজ্যের বড় বড় শহরে ২২ অক্টোবর ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ৩০ অক্টোবর থেকে আগাম ভোট গণনা শুরু হয়েছে। ডাকে ব্যালট পৌঁছানোর শেষ দিন ৪ নভেম্বর। অন্যদিকে ছোট ছোট শহরে ৩০ অক্টোবর থেকে ডাকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এগুলোর গণনা নির্বাচনের দিন করা হয়।

নর্থ ক্যারোলাইনা : নর্থ ক্যারোলাইনায় নির্বাচন পূর্ব ভোটের প্রক্রিয়া ২৯ সেপ্টেম্বর শুরু হয়। নির্বাচনের দিন গণনা করা হয়। ভোটগ্রহণ বন্ধ হয় একই দিন সন্ধ্যায়। এই রাজ্যটি ব্যাটলগ্রাউন্ড বা দোদুল্যমান রাজ্যের তকমা পেয়েছে। ফলে এখানের ফলাফল জয়-পরাজয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

পেনসিলভানিয়া : যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য এটি। এখানে ডাকে ব্যালট পৌঁছানোর শেষ দিন ৬ নভেম্বর। নির্বাচনের দিন রাত ৮টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। এখানকার অনেক শহরে নির্বাচনের দিন ডাকে পাঠানো ব্যালট গণনা করা হয় না।

ওহাইও : এ অঙ্গরাজ্যে নির্বাচন পূর্ব ভোটের প্রক্রিয়া ৬ অক্টোবর শুরু হয়। নির্বাচনের দিন ভোট গণনা করা হয়। এখানকার অনেক শহরে আগাম ভোট আগেই প্রকাশ করা হয়। আর নির্বাচনের দিন ওই দিন দেয়া ভোটের গণনা করা হয়।

অ্যারিজোনা : এ অঙ্গরাজ্যে নির্বাচন পূর্ব ভোটগ্রহণ ২০ অক্টোবর শুরু হয়। নির্বাচনের দিন রাত ৯টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। এখানে প্রথমে আগাম ভোটের ফল প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ১ ঘণ্টা পর ওইদিনের ভোট গণনা শুরু হয়।

উইসকনসিন : এটিও একটি ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য। গতবার ট্রাম্প এ রাজ্যে জয় পেলেও এবার বাইডেনের জয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের দিন রাত ৯টা পর্যন্ত ভোট কেন্দ্র খোলা থাকে। নির্বাচনের দিন সব ধরনের ভোট গণনা শুরু হয় এবং পরের দিন শেষ হয়।

মিশিগান : এটিও ব্যাটলগ্রাউন্ড। তবে বাইডেন এগিয়ে আছেন। এ অঙ্গরাজ্যের কিছু বড় শহরে ২ নভেম্বর থেকে ভোট গ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে সারা দেশে নির্বাচনের দিনও ভোট গ্রহণ ও গণনা করা হয়। এদিন রাত ৯টা পর্যন্ত ভোট কেন্দ্র খোলা থাকে। ৬ নভেম্বরের মধ্যে ভোট গণনা শেষ করা হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যখন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ কাজ করছে।

এবারের নির্বাচনে জোর লড়াই হচ্ছে। আর এ কারণেই চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে দুই প্রার্থীর কাউকে অভিনন্দন জানানোটা কঠিন হয়ে পড়বে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, গেলবারের মতো এবারও হয়তো মোট ভোটে একজন এগিয়ে থাকলেও অন্য কেউ ইলেকটোরাল ভোটের জোরে প্রেসিডেন্ট হয়ে যেতে পারেন। নির্বাচনের ফল ঘোষণা নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা না থাকায় গেলবার এ নিয়ে তেমন গোল বাঁধেনি। কিন্তু এবার জটিলতা হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

এই শঙ্কার কেন্দ্রে রয়েছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্য। নির্বাচনী প্রচারের একেবারে শুরু থেকেই তিনি ডাকযোগে ভোটে জালিয়াতি হবে বলে দাবি করে আসছেন। অথচ করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার সর্বোচ্চসংখ্যক ডাকযোগে ভোট পড়েছে। এই ডাকযোগে ভোটের ফল আবার সব অঙ্গরাজ্য একসঙ্গে ঘোষণা করবে না। কোনো কোনোটিতে এর ফল আসতে সপ্তাহ গড়াতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতারা রীতিমতো সংশয়ে রয়েছেন। উত্তর ইউরোপীয় এক নেতার পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এত গুরুত্বপূর্ণ এক মিত্র দেশের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে আপনি দ্রুততার সঙ্গে অভিনন্দন জানাতে চাইবেন। কিন্তু এবার এটি ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আপনি ভুল করতে পারবেন না। ফলে দ্রুত বার্তা পাঠানো সম্ভব হবে না। নির্বাচনের দিন পার হওয়ার পরও আমাদের হয়তো অপেক্ষা করতে হবে।’

এবারের নির্বাচনের পরিস্থিতি অনেকটা ২০০০ সালের নির্বাচনের মতো। সেবার যুক্তরাষ্ট্রের কিছু টিভি চ্যানেলে জর্জ ডব্লিউ বুশকে বিজয়ী বলে প্রচার করার পরপর জার্মানি ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এবং দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ক্ষমতাসীন দলের নেতারা জর্জ বুশকে অভিনন্দন জানান। কিন্তু এরও পাঁচ সপ্তাহ পর সুপ্রিম কোর্ট ওই নির্বাচনের বিজয়ী ঘোষণা করে। রায়ে জর্জ বুশকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তত দিনে অনেকেই তাঁদের অভিনন্দন বার্তা ফিরিয়ে নেন। অনেকে নীরব থাকার কৌশল নেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও জটিলতা হয়েছিল। হিলারি ক্লিনটন মোট ভোট বেশি পেলেও ইলেকটোরাল ভোট বেশি পাওয়ায় নির্বাচনে বিজয়ী হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবারও তেমন কিছু হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ফলে বিশ্বনেতাদের পক্ষে সাবধানী না হয়ে আর উপায় নেই।

ইউরোপীয় কমিশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যঁ-ক্লদ জুয়েঙ্কা জার্মানির এআরডি-টিভিকে বলেন, অভিনন্দন বার্তা পাঠানোর ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে সাবধানতার কোনো বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে ইউরোপের আরেকটি দেশের শীর্ষ নেতার প্রধান উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি খুবই জটিল ও সংবেদনশীল। নির্বাচনের সুস্পষ্ট ফল আসতে হবে। একই সঙ্গে উভয় প্রার্থীর ফল মেনে নেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ এবার উভয়েই নিজেদের বিজয়ী দাবি করতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘ধরুন বাইডেন জিতলেন, আপনি তাঁকে অভিনন্দন জানান; সমস্যা নেই। কিন্তু ভুলেও ট্রাম্পকে সমবেদনা জানাতে যাবেন না। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী তিনি আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট আছেন।’

প্রতিবেশী কানাডা স্বাভাবিকভাবেই এই নির্বাচনের দিকে কড়া নজর রাখছে। অটোয়ার একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সুস্পষ্ট ফল আসা পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবে। পরিস্থিতি কেমন হবে তা সম্পর্কে নিশ্চিত না হলেও কোনো একজন প্রার্থীকে শেষ পর্যন্ত ছাড় দিতে হতে পারে। কিন্তু যদি কেউ ছাড় না দেয়, তাহলে নিজেদের করণীয় নিয়ে খুবই সতর্ক থাকতে হবে। সূত্রটি জানায়, ‘আমরা যত দিন প্রয়োজন, তত দিন পর্যবেক্ষণ করব।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এই জাতীয় আরো খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Maintained By Ka Kha IT