1. ph.jayed@gmail.com : akothadesk42 :
  2. admin@amaderkatha24.com : kamader42 :
রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় শুরু

আমাদের কথা ডেস্ক
  • আপডেট : সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

নিউজ ডেস্ক: শরীরী ভাষায় আগ্রাসন কম। পছন্দ করেন ঠাণ্ডা মাথায় নেতৃত্ব দিতে। অধিনায়ক হিসেবে সামনে আসার তুলনায় আকবর আলী সাফল্যের নেপথ্যে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। আঠেরোর ঔদ্ধত্যকে বশে রাখা এই তরুণের হাত ধরেই প্রথমবার বিশ্বকাপ পেল বাংলাদেশ।
আকবরের জন্ম ২০০১ সালের ৮ অক্টোবর, রংপুর সদরে। প্রথাগত ক্রিকেট প্রশিক্ষণের হাতেখড়ি সপ্তম শ্রেণিতে। বাংলাদেশ ক্রীড়াশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি’র অনূর্ধ্ব ১৮ দলের হয়ে প্রথম লিস্ট এ ম্যাচ খেলেন ২০১৯ সালের ৮ মার্চ। বিপক্ষে ছিল আবাহনী লিমিটেড।

তার আগেই অবশ্য হয়ে গিয়েছে টি-২০ ম্যাচে আত্মপ্রকাশ। ২০১৯-এর ২৫ ফেব্রুয়ারি টি-২০ ম্যাচে তার অভিষেক। বাংলাদেশ ক্রীড়াশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হয়ে তিনি খেলেন প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের বিরুদ্ধে।

এখনও পর্যন্ত ১৩টি লিস্ট এ ম্যাচে তার মোট রান ২৯৫, সর্বোচ্চ ৫৬। দু’টি টি২০ ম্যাচে তিনি করেছেন ৮৫ রান। সেখানে তার সর্বোচ্চ রান ৮৫। এই ১৯বছর বয়সী তরুণের হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছিল যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বের ব্যাটন। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই আকবর আলি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। বলেছিলেন, বাংলাদেশ যে শুধু নক আউটে যাবে তাই নয়, বিশ্বকাপও জিতবে।

যে দেশ কোনওদিন ক্রিকেট বিশ্বকাপের কোনও পর্যায়ে ফাইনালেই পৌঁছতে পারেনি, তারা কি না কাপ জিতবে! আকবর আলির কথা গুরুত্বই পায়নি সংবাদমাধ্যমে। ধরে নেওয়া হয়েছিল টগবগে রক্তর ‘অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস’ কথা বলেছে। কিন্তু অনূর্ধ্ব-১৯ যুব বিশ্বকাপ যত এগিয়েছে, ততই সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে আকবর আলীর ভবিষ্যদ্বাণী। লিগ পর্যায়ে কঠিন গ্রুপেই ছিল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান, জিম্বাবোয়ে, স্কটল্যান্ডের মতো দল।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে জিতে আকবরের অধিনায়কত্বে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে পা রাখে বাংলাদেশ। একবারও এই জয়ের কৃতিত্ব নিজে নেননি আকবর। উল্টো বলেছেন, এই দলীয় সাফল্যের নেপথ্যে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। প্রচুর ম্যাচ খেলার সুযোগ, বিদেশ সফর, উন্নত পরিকাঠামো তাদের পরিশীলিত করেছে। বারবার এমনটাই জানিয়েছেন অধিনায়ক আকবর।

এক বছরের বেশি সময় ধরে দল হিসেবে খেলায় তাদের মধ্যে বন্ডিং গড়ে উঠেছে। রোববার যার ফল পেয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার পোচেস্ট্রুমে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয় করেছে আবর বাহিনী।

এই সাফল্যের কৃতিত্বের বড় অংশ বাং‌‌লাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকেই দিয়েছেন আকবর আলী। যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ছিল জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে। তার আগেই আকবরের বাড়ি থেকে আসে খারাপ খবর। মারা গেছে তার বোন। কিন্তু তাকে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়তে দেননি দলের বাকি সদস্যরা। বাড়ি থেকে প্রায় আট হাজার কিলোমিটার দূরে তারাই আগলে রেখেছিলেন অধিনায়ককে।

মাঠের বাইরে সহজ জীবনদর্শনে বিশ্বাসী তরুণ অধিনায়ক। ক্রিকেট তার জীবন। তাই বলে জীবন ক্রিকেটসর্বস্ব নয়। জয়ের পাশাপাশি পরাজয়কেও মেনে নিতে শিখেছেন তিনি। মনে করেন, ক্রিকেটই জীবনের শেষ কথা নয়, মাঠের বাইরেও একটা বড় জীবন আছে।

একাধারে ব্যাটসম্যান-উইকেটকিপার-অধিনায়ক। অনেকেই আকবর আলীর সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেটার ধোনির মিল খুঁজে পান। কিন্তু বাংলাদেশি অধিনায়ক জানিয়েছেন, কাউকে অনুকরণ করে নয়, তিনি নিজের মতো খেলতে চান তিনি।

তিনি উইকেটের পিছনে থেকে বিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের পর্যবেক্ষণ করতে ভালবাসেন। ফলে এতে তার দলকে নেতৃত্ব দিতে সুবিধে হয়। জাতীয় দলের অধিনায়কত্বকেও বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি। বরং, এই তরুণ তুর্কি মনে করেন দলীয় ক্রীড়া হিসেবেই দেখা উচিত ক্রিকেটকে।

উইকেটকিপিংয়ের মতো ‘থ্যাঙ্কলেস’কাজের পাশাপাশি ব্যাটিং অর্ডারেও নিজেকে রাখেন নীচের দিকে। ব্যাট করতে নামেন ছ’নম্বরে। তাই বুঝি নিজেকে ‘ফিনিশার’বলতে ভালবাসেন সবসময়। এই সাদামাটা তরুণের নেতৃত্বে শুরু হলো বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়।

সূত্র: আনন্দবাজার

নিউজটি শেয়ার করুন

এই জাতীয় আরো খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Maintained By Ka Kha IT