1. ph.jayed@gmail.com : akothadesk42 :
  2. admin@amaderkatha24.com : kamader42 :
বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ০১:০০ অপরাহ্ন

‘প্রধানমন্ত্রীর কথার বাস্তবায়ন দেখতে চায় বিএনপি’

আমাদের কথা ডেস্ক
  • আপডেট : বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯

নিউজ ডেস্ক: ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে মানবাধিকার রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর’- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে উল্লেখ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আগামীকাল সর্বোচ্চ আদালতে প্রধানমন্ত্রীর এই কথা ও অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে মানবাধিকার রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আমরা আগামীকাল সর্বোচ্চ আদালতে প্রধানমন্ত্রীর এই কথা ও অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। তিনি যে মানবাধিকারকে পদদলিত, সমগ্র বিচার ব্যবস্থাকে কুক্ষিগত করে ন্যায়বিচারের টুটি চেপে ধরে মিথ্যাবাদীতার নীতি নিয়ে তিনি যে সরকার পরিচালনা করছেন, সেখান থেকে সরে আসার নজির সৃষ্টি হবে, তিনি যদি আদালতকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেন। কারণ ইতোপূর্বে আমরা দেখেছি প্রধান বিচারপতিসহ একজন বিচারককে বন্দুকের নলের মুখে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামীকাল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানী হবে। দেশের মানুষ গভীর আশা নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। দু:শাসনকবলিত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল ও ভরসার জায়গা হলো দেশের বিচারালয়। আমরা এখনও বিচার বিভাগকে বিশ্বাস করি। বিশেষ করে সুপ্রিমকোর্ট নিরপেক্ষ থেকে ন্যায়বিচার করবেন, আইনের শাসন কায়েম থাকবে বলে আশা করি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা আশা করি, মহামান্য আদালত চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে তার প্রাপ্য হক জামিন দিয়ে মুক্ত পরিবেশে পছন্দমতো হাসপাতালে স্বাধীনভাবে সুচিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ দেবেন। আইন, সংবিধান, মানবাধিকার, বয়সসহ সকল বিবেচনা অনুযায়ী জামিন পাওয়া তার ন্যায়সঙ্গত অধিকার। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা চেয়ারপারসনের জামিন নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন। আমরা আশা করি, উচ্চ আদালত সবকিছু বিবেচনা করে সঠিক রায় দেবেন।

তিনি বলেন, আমরা সরকারকে বলবো-বেগম জিয়া গুরুতর অসুস্থতায় ধুঁকছেন। তার জীবনহানির শঙ্কায় শঙ্কিত আমরা। গোটা দেশবাসী গভীর উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় আছে। জামিন আটকে দিতে আদালতে নগ্ন হস্তক্ষেপ করবেন না। ন্যায়বিচারে বাধা দিবেন না। মানবিক কারণে খালেদা জিয়ার জামিন দিন। তার জামিনই এখন দেশবাসীর কাছে মূখ্য। তাহলেই বোঝা যাবে, প্রধানমন্ত্রীর গতকালের বক্তব্যের সাথে কাজের মিল আছে।

ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বহুল আলোচিত নাগরিকত্ব বিল পাস এর প্রসঙ্গে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ভারতের এনআরসি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে শুধুমাত্র ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম নাগরিকরা একাই ভয়াবহ সংকটে পড়বে না, আমরা আশংকা করছি। বরং এতে ভারতের প্রতিবেশী বাংলাদেশ অচিরেই নাগরিকত্ববিহীন ভারতীয় মুসলিম নাগরিকের ভয়ংকর পুশইন তাণ্ডবের শিকারে পরিণত হতে পারে। ইতিমধ্যেই ভারত থেকে বাংলাদেশের সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতীয় নাগরিকদের গণহারে পুশইন করা শুরু হয়ে গেছে।

রিজভী বলেন, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনে বিএনপিকে অভিযুক্ত করে ন্যাক্কারজনক বক্তব্য দিয়েছেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন না থামার কারণেই নাকি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি এনেছেন। এক্ষেত্রে তিনি সরাসরি বিএনপির নাম উল্লেখ করে অভিযোগ তুলেছেন যে, এই আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন অনেক বেশি হয়েছে। অমিত শাহ সত্যভ্রষ্ট। অমিত শাহ’র এই দায়িত্বজ্ঞানহীন জঘন্য মিথ্যা অভিযোগ ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা এটার তীব্র নিন্দা এবং এই ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাহারের আহবান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলছি, বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে সবচেয়ে বেশী। বরং অমিত শাহদের আশির্বাদপুষ্ট আওয়ামী লীগের সময়ে তাদের ওপর কমবেশী নির্যাতন হয়েছে। বিএনপির ওপর দায় চাপিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ’র এই বক্তব্য শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং সৎ প্রতিবেশীসূলভ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অশুভ ইঙ্গিতবাহী। তার এই বক্তব্য বাংলাদেশী জনগণকে উপহাস ও তাচ্ছিল্য করা। একটি দলকে কব্জায় নিয়ে বাংলাদেশে তারা যে আধিপত্য বজায় রেখেছেন, অমিত শাহ’র এই বক্তব্য সেটির সুষ্পষ্ট বহি:প্রকাশ।

রিজভী জানান, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে আগামী ১৪ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভে বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দ পুস্পার্ঘ অর্পণ করবেন। আর আগামী ১৫ ডিসেম্বর দুপর ২টায় সুপ্রীম কোর্ট বার অডিটোরিয়ামে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে আগামী ১৮ ডিসেম্বর দুপুর ২টায় রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে (কাজী বশির মিলনায়তন) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই জাতীয় আরো খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Maintained By Ka Kha IT