1. ph.jayed@gmail.com : akothadesk42 :
  2. admin@amaderkatha24.com : kamader42 :
শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন

প্যারিসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও অমর একুশে উদযাপন

আমাদের কথা ডেস্ক
  • আপডেট : শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

নিউজ ডেস্ক: যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে বাংলাদেশ দূতাবাস প্যারিস কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং মহান শহিদ দিবস ২০২৪ উদযাপন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে প্যারিসস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে ইউনেস্কো’র জনসমাদৃত জেনারেল কনফারেন্স হল এবং দুতাবাস প্রাংগণে আলাদা ভাবে দিনব্যাপী মোট তিনটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানসমূহে দূতাবাসে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, ইউনেস্কোর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, ইউনেস্কোতে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধিগণসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার স্থানীয় প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

২১ ফেব্রুয়ারি সূর্যোদয়ের সাথে সাথে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার সাথে মান্যবর রাষ্ট্রদূতের পতাকা উত্তোলন এবং অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এরপর, মান্যবর রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়। অতঃপর দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণ তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ১৯৫২-এর ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সমবেতভাবে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

অনুষ্ঠানে, পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ হতে পাঠ করা হয় এবং সকল ভাষা শহিদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে সরকার কর্তৃক নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনসহ দূতাবাসের কর্মকর্তাগণ কর্তৃক উক্ত দিবসে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী প্রদত্ত বাণীসমূহ পাঠ করা হয়।

একই দিনে ইউনেস্কোর সদস্য রাষ্ট্রসমূহের প্রায় ২৫টি দেশের অংশগ্রহণে ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে বৈচিত্র্যময় প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এছাড়াও, ইউনেস্কো সদর দপ্তর আয়োজিত দিনব্যাপি আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত বক্তব্য প্রদান করেন। শিক্ষা বিষয়ক তরুণ উদ্ভাবক ও টেন মিনিটস স্কুল-এর প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক ইউনেস্কো কর্তৃক আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আলোচনায় যোগ দেন।

এ বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল Multilingualism: A Pillar of Intergenerational Learning যার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাপী বহুভাষিক শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের আহবান জানানো হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত সকল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো’র শিক্ষা বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সহকারী মহাপরিচালক স্টেফানিয়া জিয়ান্নিনি।

এছাড়াও ইউনেস্কো সাধারণ পরিষদ এবং নির্বাহী পরিষদের সভাপতিগণ এবং বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রসমূহের স্থায়ী প্রতিনিধিগণ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কূটনৈতিকগণ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও, প্যারিসে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পাশাপাশি প্যারাগুয়ে, চীন, রাশিয়া, আজারবাইজান, উজবেকিস্তান, মলদোভা, শ্রীলংকা, কেনিয়া, ইউক্রেন, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের শিল্পীগণ তাদের বৈচিত্রময় পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন।

রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা দিবসটি উপলক্ষ্যে ইউনেস্কো আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে বিশ্বের সকল মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার জন্য ইউনেস্কো কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এবছর দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে একটি সময়োপযোগী প্রতিপাদ্য নির্বাচনের জন্য তিনি আয়োজকদের সাধুবাদ জানান এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষাখাতে পরিবর্তনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অপরিহার্যতা তুলে ধরেন।

 

তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ অতিমারীর প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। কোভিড-১৯ এর নেতিবাচক প্রভাবকে মোকাবিলা করতে এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে ইউনেস্কো কর্তৃক গৃহীত Transforming Education কার্যক্রমকে সফল করতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও অংশীদারিত্ব তুলে ধরেন। তবে, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সদস্য দেশসমূহের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কার্যকর অর্থায়নের প্রতি তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়াও, রাষ্ট্রদূত তালহা তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং ভাষা আন্দোলনে তার বলিষ্ঠ ও অগ্রণী ভূমিকার বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারির আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হয় আমাদের মাতৃভাষার অধিকার যা সময়ের বিবর্তনে এদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নেয়। সেই ধারাবাহিকতায়, ১৯৫২ সালের তরুণ শেখ মুজিবর রহমান-এর হাত ধরে ১৯৭১ সালে অর্জিত হয় আমাদের চিরকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনা ও নেতৃত্বে এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে ফলে সমগ্র বিশ্বে এখন দিবসটি প্রতিপালিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক শিক্ষা ও ভাষা সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এসময় তিনি বিগত বছর সমূহে শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের অর্জনসমূহ তুলে ধরেন এবং বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে ফ্রান্সে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সুসুংহত করার নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাবার জন্য তিনি সকল প্রবাসী ভাইবোনদের প্রতি আহবান জানান।

একই দিন মধ্যাহ্নে ইউনেস্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের উদ্যোগে এবং ইউনেস্কোর সদস্য রাষ্ট্রসমূহের প্রায় ১৯টি দেশের অংশগ্রহণে ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে বৈচিত্র্যময় প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ইউনেস্কোর মিরো প্রদর্শনীকেন্দ্রে অংশগ্রহণকারী দেশসমূহ তাদের বিভিন্ন বৈচিত্রময় উপস্থাপনার মাধ্যমে নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি পরিবেশন করেন যা প্রায় সহস্রাধিক দর্শনার্থীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় অনেক রাষ্ট্রের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ ধরণের অনুষ্ঠান বাংলাদেশের জন্য বিশেষ সম্মান বয়ে নিয়ে এসেছে বলে কূটনৈতিক ও সুশীল সমাজ আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং এই ধরণের আন্তর্জাতিক মানের আয়োজনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আহবান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই জাতীয় আরো খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Maintained By Macrosys