1. ph.jayed@gmail.com : akothadesk42 :
  2. admin@amaderkatha24.com : kamader42 :
বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:০১ অপরাহ্ন

পাপিয়ার মামলা যাচ্ছে র‌্যাবে

আমাদের কথা ডেস্ক
  • আপডেট : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২০

নিউজ ডেস্ক: নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামিমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী শহর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মফিজুর রহমান চৌধুরী সুমনসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পাচ্ছে র‌্যাব। এরই মধ্যে মামলার তদন্তের দায়িত্ব নিতে র‌্যাবের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দু-চার দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটির তদন্ত র‌্যাবের হাতে যাচ্ছে। বর্তমানে পাপিয়া ও তার স্বামীকে ১৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এদিকে পাপিয়া ও তার স্বামী সুমনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৭ দিনের মধ্যে ব্যাংকগুলোকে তাদের লেনদেনসহ হালনাগাদ সব ধরনের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন এবং তাদের স্বার্থসংশ্নিষ্ট কোনো ব্যক্তির নামে অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হয়ে থাকলে চিঠি পাওয়ার ৭ দিনের মধ্য জানাতে হবে। তাদের লেনদেন ছাড়াও অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম, কেওয়াইসি, শুরু থেকে হালনাগাদ লেনদেন বিবরণী পাঠাতে হবে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পাপিয়ার বৈধ-অবৈধ সম্পদের খোঁজ নিতে একাধিক সংশ্নিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এসব সম্পদের হিসাব পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হবে।
সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ সমকালকে বলেন, ‘পাপিয়ার সম্পদের হিসাবের তদন্ত শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত শেষে অনিয়ম পাওয়া গেলে মামলা করা হবে।’
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘পাপিয়ার মামলার তদন্তের জন্য র‌্যাবের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ দরকার হয়। তথ্যপ্রমাণ পেলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।’
নরসিংদীর একাধিক বাসিন্দা জানান, নরসিংদীতে পাপিয়া ও মতি সুমন একটি গ্যাং কালচার চালু করেছিলেন। এলাকার উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের তাদের গ্যাং গ্রুপের সদস্য করে নেন তারা। অনেকে মাসিক বেতনে ‘কেএমসি’ নামে ওই গ্রুপের হয়ে কাজ করতেন। খাজা মঈনুদ্দীন চিশতির নামে এই বাহিনী গড়ে তোলেন সুমন ও পাপিয়া। তারা ধরা পড়ার পর ওই গ্রুপের সব সদস্য গা-ঢাকা দিয়েছে। অনেকে গ্রেপ্তারের ভয়ে বিদেশে পালিয়েছে।
নরসিংদীর স্থানীয়রা জানান, পাপিয়া এলাকায় মাঝেমধ্যে যেতেন। বিশেষ করে কোনো রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি এলে নরসিংদীতে গিয়ে বড় শোডাউন করতেন তিনি। তার চালচলন দেখে এলাকার অনেকে সংশয় প্রকাশ করতেন। তবে হোটেলকেন্দ্রিক যে একটি অপরাধী চক্র গড়ে তুলেছেন, তা অধিকাংশ লোক জানতেন না। কিন্তু যারা তার ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তারা জানতেন গুলশানের একটি পাঁচ তারকা হোটেল ঘিরে তার বড় ধরনের অনৈতিক বাণিজ্য রয়েছে।
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, পাপিয়া যখন গুলশানের ওই হোটেলে নগদ টাকায় একবার মোটা অঙ্কের বিল পরিশোধ করেন, তখনই বিষয়টি এক গোয়েন্দা সদস্যের নজরে আসে। এরপর তার ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া শুরু হয়। দীর্ঘদিন নজরদারির পর ধরা পড়েন তিনি।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি পাপিয়া ও তার স্বামী মতি সুমন এবং তাদের আরও দুই সহযোগী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বহির্গমন গেট পার হওয়ার সময় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা, ইয়াবা, মদ ও জাল মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। পরদিন তাদের নিয়ে নরসিংদী ও ফার্মগেটের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে ফার্মগেটের বাসা থেকে ৫৮ লাখ টাকা, অবৈধ পিস্তল ও গুলি, বিদেশি মুদ্রা ও মদ জব্দ করা হয়।
কিছু গণমাধ্যমের তথ্যের সঙ্গে তদন্তের মিল নেই-ডিএমপি :পাপিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত সম্পর্কে গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাপিয়া, তার স্বামী সুমন, সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও তাইয়েবা নুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি। তাদের কাছে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিচার্য বিষয়গুলোর সঙ্গে সংশ্নিষ্ট প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুরো বিষয় এখনও তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে ডিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি কিছু গণমাধ্যমে তদন্ত সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে বিভিন্ন তথ্য প্রচার ও প্রকাশ করা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ও পরিচয় প্রকাশ-প্রচার করছে। এর সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা ও তদন্ত সংশ্নিষ্টদের সম্পৃক্ততা বা তদন্তে পাওয়া তথ্যের কোনো সামঞ্জস্য নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রিমান্ডে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে মনগড়া তথ্য প্রকাশ-প্রচারের ফলে তদন্ত কর্মকর্তার ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক চাপ তৈরি হয়। এর ফলে বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত ব্যাহত ও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ অবস্থায় সবাইকে পেশাদারি ও দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই জাতীয় আরো খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Maintained By Ka Kha IT