1. ph.jayed@gmail.com : akothadesk42 :
  2. admin@amaderkatha24.com : kamader42 :
জাতীয়তাবোধ থেকেই প্রবাসে ক্রিকেট ক্লাব গঠন - আমাদের কথা
মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ১১:০১ অপরাহ্ন

জাতীয়তাবোধ থেকেই প্রবাসে ক্রিকেট ক্লাব গঠন

আমাদের কথা ডেস্ক
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০
২০১৮ তে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি

সুরাইয়া নাজনীন-

সারা রাত কাজ করে দিনে প্র্যাকটিস করেন খেলোয়াড়রা। কতটা আবেগ, আগ্রহ জড়িয়ে আছে ক্রিকেটের প্রতি কিন্তু ফ্রান্সে ক্রিকেটের প্রচারটা কেন যেন একটু কম, এমনটা বলছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট ক্লাব প্যারিসের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাধারণ সম্পাদক অহিদুজ্জামান টিপু। তবে তাদের আপ্রাণ চেষ্টা, মনোবল এবং সাহসের কারণে আজ বট গাছের মতো দাঁড়িয়ে আছে ‘বিসিসিপি’। যা একনামে সবাই চেনে এবং জানে। সেই গল্প নিয়েই আয়োজন ‘আমাদেরকথায়’ –

কিভাবে মাথায় এলো প্রবাসে এমন একটা ক্লাব করা যায়?

নেশা থেকে মানুষ সব করতে পারে। খেলার নেশা আমাকে তাড়িত করতো সবসময়। আমি স্টুডেন্ট ভিসায় প্রথম ইংল্যান্ড আসি, পরে স্থায়ী হই ফ্রান্সে। কাজ করতাম ঠিকই কিন্তু খেলার পোকা আমার মাথায় ঘুরতো। কিভাবে কি করা যায়, ভাবতে ভাবতে ক্রিকেট টিম তৈরি করলাম, পরে ক্লাব করার উদ্যেগ নিই। ২০১৪ সালে আমাদের সভাপতি সুমন ভাই, সহসভাপতি আশু ভাই, এক ছোট ভাই সামশ কে নিয়ে সম্মলিত উদ্যোগে ক্লাব গঠন করতে সক্ষম হই।

ফ্রান্সে ক্রিকেট ক্লাবের জনপ্রিয়তা কেমন?

আমাদের ক্লাব এখানে তুমুল জনপ্রিয়। মজার বিষয় ফ্রান্সে অন্যান্য দেশের বহু ক্লাব আছে কিন্তু প‌্যারিসের পথঘাট নিয়ে সেগুলোর নামকরন করা হয়েছে। তবে আমরা দেখেছি দেশের প্রতি আমাদের মমত্ববোধ, ভালোবাসার জায়গাটি অন্যরকম। সেই জাতীয়তাবোধ থেকে ক্লাবের নামকরণ করেছি নিজ দেশের নামে। বর্তমানে ফ্রান্সে ৩২ ক্লাব আছে তার মধ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির চারটি। বাকি ৩ টি অবশ্য পরে হয়েছে।

 

বাকি ৩টি ক্লাবের গ্রহণযোগ্যতা কেমন?

আমি একটি জিনিস সবসময় লক্ষ্য করি। একধরণের সংগঠন কিংবা প্রতিষ্ঠান তৈরি হলে দলীয়ভুক্ত হয়ে যায়। প্রতিযোগী কিংবা প্রতিদ্বন্দী মনে করে কিন্তু খেলার জগতে বোধহয় সেই ধারণার কিছুটা হলেও মতভেদ আছে। আমাদের বাকি ক্লাবগুলোর সহযোগিতা, পরামর্শ আমরাই দিয়ে থাকি। একটি নির্দিষ্ট নিয়মে ক্লাব ট্রান্সফার করারও সুযোগ আছে।

‘বিসিসিপি’ এর ধারাবাহিক গতি এবং অর্জন সম্পর্কে বলুন

‘আমাদের শুরুর বছর ২০১৪ তে আমরা রিজনাল লিগ খেলে চ্যাম্পিয়ন হই এবং থার্ড ডিভিশনে খেলার যোগ্যতা অর্জন করি। ২০১৫ তে থার্ড ডিভিশন থেকে সেকেন্ড ডিভিশনে খেলার সুযোগ পাই। ২০১৬ তে সেমি ফাইনালিস্ট হই। তবে ২০১৭ তে নানা কারণে খেলা হয় না, ড্রপ যাই বছরটি। তখন আমাদের থার্ড ডিভিশনে নামিয়ে দেয়া হয়। ২০১৯ এ আবার সেকেন্ড ডিভিশনে চলে আসি। রানারআপ হই ২০১৯ এ। ২০২০ এ আবার সেমি ফাইনাল পর্যন্ত খেলার সুযোগ হয়।
একটা সময়ের কথা না বললেই নয়, ২০১৪ তে গোটা বাংলাদেশ এক হয়েছে ফ্রান্সে। ফ্রান্স ক্রিকেট বোর্ড, অ্যাম্বেসেডর, গন্যমান্য ব্যক্তিরা আমাদের সম্বর্ধনা দিয়েছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না আগের প্রশাসন প্রধানরা অনেক বেশি ক্রিকেট বান্ধব ছিলেন। আমাদের ছোট ছোট স্বপ্ন বাস্তবায়নে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

 

যখন খেলা অনুষ্ঠিত হয় তখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পান?

আমাদের মনে হয় ক্রিকেট ছাড়া আর কোন ইভেন্ট নেই যে সবাইকে এক করতে পারে। যখন দেখি মাঠে প্রবাসীদের মাঝে টান টান উত্তেজনা, দুর দুরান্ত থেকে খেলা দেখতে চলে আসে তখনই শতভাগ সফল মনে হয় নিজেকে।

 

ক্লাবের পক্ষ থেকে তারুণ্যের কিংবা নতুনদের জন্য প্রধান্য কেমন?

সময়তো সবসময় একরকম থাকে না। তরুনরা আসবে কিছু কিছু দায়িত্ব বুঝে নিবে এটাই নিয়ম। আমরা ১০-১৬ বছরের মধ্য নতুন সদস্য নিচ্ছি। তাদেরকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি। মোটিভেশন দিয়ে যাচ্ছি। প্রবাসে টিনেজারদের উচ্ছন্নে যাওয়ার অনেক সুযোগ আছে। কিন্তু খেলাধুলার ভেতর ঢুকে পড়লে জীবনটা সুন্দরভাবে গড়ে তোলা সম্ভব।

ক্লাবের চালিকা শক্তি নিয়ে বলুন

‘এখানে খেলার জন্য ফিনানসিয়াল কস্ট অনেক বেশি। তবে বলতেই হবে, আমাদের ক্লাবটাকে সবাই সত্যি খুব ভালবাসেন। বড়ভাইরা সবসময খোঁজখবর রাখেন। তারা স্পন্সর করেন। ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা কাজী এনায়েত উল্লাহ, তিনি সর্বাঙ্গীন সহযোগিতা করেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এই জাতীয় আরো খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Maintained By Ka Kha IT