1. ph.jayed@gmail.com : akothadesk42 :
  2. admin@amaderkatha24.com : kamader42 :
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

কুলাউড়ায় স্বল্পমূল্যে ইট দেওয়ার নামে ৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ

আমাদের কথা ডেস্ক
  • আপডেট : বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় স্বল্পমূল্যে ইট দেওয়ার নামে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের এম এন এইচ ব্রিকস্ ফিল্ডের মালিক নজিবুর রহমান (মোহাম্মদ আলী) ও ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ভুক্তভোগীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন কয়ছর রশীদ, মুহিবুর রহমান জাহাঙ্গীর, আজাদ আলী, আবুল কাসেম উসমানী, রুবেল আহমদ, জালাল উদ্দিন প্রমুখ। এ সময় অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের এম এন এইচ ব্রিকস্ ফিল্ডের মালিক ও ব্যবস্থাপক স্বল্পমূল্যে ইট দেওয়ার কথা বলে গত ১০ বছর ধরে প্রায় ১৩৫ জন মানুষের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েছেন।
কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে ইট না দিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করেন তারা। বর্তমানে ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধন গা ঢাকা দিয়েছেন এবং ভাটার মালিক নজিবুর রহমান সপরিবারে বিদেশ চলে যাওয়ার পাঁয়তারা করছেন।

তারা জানান, এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল), অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) ও স্থানীয় ব্রাহ্মণবাজার ইউপি চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কয়ছর রশীদ ও জসীম উদ্দিন বলেন, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে বিভিন্ন ধাপে ভাটার মালিক নজিবুর রহমান ও ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধন আমাদের কাছ থেকে এক কোটি ১৬ লাখ টাকা নিয়েছেন। বিনিময়ে ইট বিক্রির মৌসুমে বাজার মূল্য থেকে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা কমে আমাদের ইট বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু মৌসুমে আমরা ইট সংগ্রহ করতে গেলে ইট পোড়ানো হয়নি। ইট তৈরি হলে তখন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। অথচ বাইরে বিভিন্ন ক্রেতার কাছে ঠিকই ইট বিক্রি করেছেন। বিষয়টি জেনে আমরা ভাটার মালিক নজিবুর রহমান কাছে গেলে তিনি টালবাহানা শুরু করেন।

তারা ছাড়াও ভুক্তভোগী চুনু মিয়া ৪১ লাখ, মুহিবুর রহমান জাহাঙ্গীর সাড়ে ৩ লাখ, আব্দুস সালাম ৭ লাখ, ইউসুফ আলী ৩০ লাখ, আবুল কাশেম ওসমানী দেড় লাখ, সমোজ মিয়া ১ লাখ ৯২ হাজার, তজম্মল আলী ১ লাখ ২৬ হাজার, আজাদ আলী ১ লাখ ৬০ হাজার, মাসুদ আহমদ সাড়ে ৩ লাখ, রুবেল আহমদ ৯ লাখ, গিয়াস আহমদ সাড়ে ৪ লাখ, ওসমান আলী ৩ লাখ, মুশিউর রহমান ২ লাখ, হাজির মিয়া ৩ লাখ, আব্দুল মজিদ ৩ লাখ, নাজমা বেগম ১ লাখ, খুশবা বেগম ৩ লাখ, মিছবা বেগম ৩ লাখ ৭০ হাজার, লোকমান মিয়া ৬ লাখ ৬০ হাজার, মতিন মিয়া ৫ লাখ, পায়েল মিয়া ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে মতামত জানতে ভাটার ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধনকে একাধিকবার কল করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে ভাটার মালিক নজিবুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, বর্তমানে ইটভাটার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ২০১৬ সালে আমার ইট ভাটাটি ব্যবস্থাপক মানিকের কাছে লিজ দিয়েছি। তিনি এখন ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

প্রতারণা করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভাটার মালিক আমি একা নই। আলী হায়দর ও নোমান নামে আরও দুজন রয়েছেন। আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ভাটার ব্যবস্থাপক মানিক বর্ধন এ ব্যাপারে বলতে পারবেন। গ্রাহকরা তার সঙ্গে লেনদেন করেছেন। তবে কয়েকজন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার পর থেকে তিনি এখন উধাও রয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই জাতীয় আরো খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Maintained By Ka Kha IT