1. ph.jayed@gmail.com : akothadesk42 :
  2. admin@amaderkatha24.com : kamader42 :
‘আমাকে বাঁচাও, টাকা নিয়ে দ্রুত পুলিশ ফাঁড়িতে আসো’ - আমাদের কথা
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন

‘আমাকে বাঁচাও, টাকা নিয়ে দ্রুত পুলিশ ফাঁড়িতে আসো’

আমাদের কথা ডেস্ক
  • আপডেট : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০

নিজেকে বাঁচাতে মৃত্যুর আগে পরিবারের সদস্যদের কাছে আকুতি জানিয়েছিলেন মো. রায়হান আহমদ (৩৪)। তিনি বলেছিলেন, পুলিশের দাবি করা ১০ হাজার টাকা নিয়ে দ্রুত ফাঁড়িতে যেতে। মামলার এজাহারে নিহত রায়হানের স্ত্রী এমন কথাই উল্লেখ করেছেন।

এই ঘটনায় রোববার রাত আড়াইটার দিকে রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। তবে মামলায় তিনি কাউকে আসামি করেননি। মামলার এজাহারে বলা হয়, আমাকে বাঁচাও, টাকা নিয়ে দ্রুত পুলিশ ফাঁড়িতে আসো’ মোবাইলে এ কথা শুনে রায়হানের চাচা ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে যান। রায়হান সম্পর্কে খোঁজ করতে এক পুলিশ বলেন, তিনি (রায়হান) ঘুমিয়ে গেছেন। এ সময় হাবিবুল্লাহ ১০ হাজার টাকা নিয়ে আসার কথা জানালে ওই পুলিশ সদস্য তাকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফাঁড়িতে আসতে বলেন।

এজাহারে আরো বলা হয়, পুলিশের কথা মতো রায়হানের চাচা সকাল পৌনে ১০টার দিকে ফাঁড়িতে যান। দায়িত্বরত পুলিশ তখন জানান যে রায়হান অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, রায়হানকে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তিনি সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে মারা যান।

পুলিশ প্রথমে বলেছিল, রায়হান গণপিটুনিতে আহত হয়েছেন। তাকে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। পরে পুলিশের উল্লেখ করা গণপিটুনি স্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এমন কোনো দৃশ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র বলেন, এজাহারের বর্ণনাসহ সব বিষয়ে তদন্ত চলছে।

রায়হানের বাসা সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার নিহারিপাড়ায়। পরিবারে তার স্ত্রী, দুই মাস বয়সী এক মেয়ে, মা ও চাচারা আছেন। রোববার মধ্যরাতে এজাহার দাখিলের সময় তাহমিনার সঙ্গে রায়হানের মা, চাচাসহ পরিবারের সদস্যরা ছিলেন।

এরআগে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ থেকে তাদের বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্ত করা বাকি তিনজন হলেন, কনস্টেবল হারুনুর রশীদ, কনস্টেবল তৌওহিদ মিয়া, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস।

চার পুলিশকে সাথে এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী, কনস্টেবল সজিব হোসেনকে প্রত্যাহারও করা হয়েছে। তারা সবাই বন্দরবাজার ফাঁড়িতে দায়িত্বরত ছিলেন।
সূত্র: বিডি জার্নাল

নিউজটি শেয়ার করুন

এই জাতীয় আরো খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Maintained By Ka Kha IT