আমাদেরকথা ২৪ডেস্ক: ইউরোপ ‍যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের অর্থনৈতিক পুলিশ হিসেবে মানবে না বলে জানিয়েছেন ফরাসি অর্থমন্ত্রী ব্রুনো লি মাইরে । ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এমন মন্তব্য করেছেন লি মাইরে। আর সঙ্গতিপূর্ণ ক্ষতিপূরণ না পেলে ‘যা সমীচীন মনে হবে তাই’ করা হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস এ খবর জানিয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে অর্থমন্ত্রী ব্রুনো লি মাইরে

ইরানের সঙ্গে করা চুক্তি অক্ষুণ্ন রাখতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ ইউরোপিয়ান নেতারা ট্রাম্পকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। বাণিজ্য বিষয়ে উদ্বিগ্নতা ছাড়াও এই সিদ্ধান্ত অঞ্চলটিতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এছাড়া ইরান ও ইরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিষয়টিও রয়েছে। তবে ঘনিষ্ঠ মিত্রদের অনুরোধ উপেক্ষা করেই চুক্তিটি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে ফ্রান্স-জার্মানিসহ ইউরোপের অনেক দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। চুক্তি থেকে সরে আসায় দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের স্থগিত করা নিষেধাজ্ঞা আবারও কার্যকর হবে। তাতে ইউরোপের অনেক কোম্পানিকে লোকসান গুনতে হবে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী ব্রুনো লি মাইরে বলেন, ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বের অর্থনৈতিক পুলিশ’ হিসেবে মেনে নেবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা কি যথেচ্ছভাবে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত মেনে চলার মতো ক্রীতদাস হতে চাই? নাকি আমাদেরও যে অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে সেই কথা বলতে চাই? আমরা ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাব বলে বিবেচনা করছি। ’

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ২০১৫ সালে এই চুক্তিটির মূল উদ্যোক্তা ছিলেন। চুক্তিটির মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে সীমিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ই ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি চুক্তিটিকে খারাপ সমঝোতা বলে অ্যাখ্যা দেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সংশোধনের জন্য মিত্রদের ওপর চাপ দিয়ে সফল না হওয়ার গত মঙ্গলবার চুক্তিটি থেকে বের হয়ে আসার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ওই সময় তিনি ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বলেন, ইরান চুক্তি মেনে চলছে না। 

যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি প্রত্যাহারের ঘটনায় সঙ্গতিপূর্ণ পুরো ক্ষতিপূরণ না পেলে ‘যা সমীচীন মনে হবে তাই’ করা হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে ইরান সরকার। শুক্রবার দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশাল আকারের বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তি অন্যান্য পক্ষ বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিকে অবশ্যই সঙ্গতিপূর্ণ সুরক্ষা দিতে হবে। তাদের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করতে হবে আর ‘কোনও পূর্বশর্ত ছাড়াই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে’।   

বিবৃতিতে ২০১৫ সালের চুক্তিটির  কোনও ধারা বা সময় কাঠামো নিয়ে আপোস করা হবে না বলেও পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী চুক্তি বাকি পাঁচ পক্ষসহ ইরানের অন্যান্য অর্থনৈতিক পক্ষের কাছ থেকে নিশ্চয়তা দাবি করেছেন বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তারা ইরানের অ্যাটোমিক এনার্জি অর্গানাইজেশনের সভাপতিকে কোনও বিধি-নিষেধ ছাড়াই ব্যাপক আকারে উৎপাদন বাড়ানো প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এজন্য তাদের সাহসী পরমাণূ বিজ্ঞানীদের সর্বশেষ গবেষণা ও উন্নয়নের ফলাফলকে কাজে লাগানোর কথাও বলা হয়েছে। 

বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনার পাশাপাশি তার প্রশাসনকে ‘চরমপন্থী’ বলে অ্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এভাবে চুক্তি প্রত্যাহারের বিষয়টিকে তারা ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করেছে। ইরান বলেছে, চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র স্বাক্ষরিত ও মেনে নেওয়া বর্তমানের আন্তর্জাতিক আইন ব্যবস্থার ভাবমূর্তিকেও ভয়াবহ বিপদে ফেলে দিয়েছে।

শুক্রবার তেহরানের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। সিবিএস নিউজের তেহরান প্রতিনিধি এলিজাবেথ পালমার বলেন, মিছিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ ছাড়াও অনেক ইরানি সরকারকেও দোষারোপ করেন। বিদ্যুৎ, পানি ও পর্যাপ্ত মজুরি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক ইরানি সরকারের নিন্দা করেন। এই বিক্ষোভে প্রথমবারের মতো দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা খামেনির ছবিতে আগুন দিতে দেখা গেছে।

You Might Also Like

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).