বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা আর উৎসবমুখর পরিবেশে ইতালির মিলানে বরণ করা হয়েছে বাংলা নববর্ষ। মিলানের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের উদ্যোগে স্থানীয় পার্কো নর্দে পার্কে নানা আয়োজনে বৈশাখ উদ্‌যাপন করা হয়। গতকাল সকাল থেকেই মিলান ও আশপাশের শহর থেকে অনেক বাংলাদেশি পার্কো নর্দে মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য সমবেত হন। বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিতে সমগ্র এলাকা উৎসবের আমেজে ভরে ওঠে। ঢোল, একতারা, বাঁশি, মুখোশ, কুলা আর আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যের নানা সামগ্রী হাতে নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সকলের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। বিদেশিরাও এই প্রাণের মেলায় বাংলাদেশিদের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দেন। আয়োজন করা হয় মেলার। নানা ঐতিহ্যবাহী পিঠা, ঝালমুড়ি, চটপটি, ফুচকা, কুটির শিল্প, দেশি বস্ত্র ও মেহেদির স্টলসহ মেলায় ছিল ১০টি স্টল।


মিলানে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল রেজিনা আহমেদ ও পার্কো নর্দের প্রেসিডেন্ট রবার্তো কার্নেলি বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন। পরে রেজিনা আহমেদ, রবার্তো কার্নেলি ও কমিউনিটির নেতারা বক্তব্য দেন।
রেজিনা আহমেদ বলেন, নববর্ষ বাঙালির সর্বজনীন প্রাণের উৎসব। বাঙালির সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ বর্ষবরণ; এ দিনে আমরা পুরোনো, জীর্ণ আর ক্লেদ সরিয়ে সম্মুখ যাত্রার শুভ উদ্বোধন করি। সংগীত-নৃত্য-কবিতা আর মঙ্গলালোকের শুভ উচ্ছ্বাসের ভেতর দিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার শপথ নিই। তিনি নতুন বছরে সরকার ও দেশের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।


এসো হে বৈশাখ চিরকালীন এ গানের সম্মিলিত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু করা হয়। সংগীত, নৃত্য, কুইজ, ফ্যাশন শো, ঐতিহ্যবাহী বিবাহ শোভাযাত্রা-ইত্যাদিতে সমবেত শিল্পীরা সবাইকে দিনভর মাতিয়ে রাখেন। কাব্যের সুষমা, সংগীতের মূর্ছনা, ফ্যাশন শো'র উদ্দামতা, কৌতুকের উচ্ছ্বাস, প্রাণবন্ত দিনটিকে মুখর করে তোলে।
বলা যায়, এদিন মিলানের পার্কো নর্দ এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল।

You Might Also Like

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).