শ্রমিক ধর্মঘটে সাত দিনের মাথায় ১৭ কোটি ইউরো লোকসান দিয়েছে ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, উচ্চ বেতনের দাবিতে কর্মীদের সাত দিনের ধর্মঘটে তাদের ১৭ কোটি ইউরো লোকসান হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ টাইমস।

 
ধর্মঘটের কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহকও হারাতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। আগের মাসের তুলনায় এ মাসে তাদের গ্রাহক কমেছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ ধর্মঘট সপ্তাহে দুই দিন করে পালিত হয়। প্রতি মঙ্গল ও বুধবার ধর্মঘট পালন করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা। সে অনুযায়ী আগামী ১৭, ১৮ এবং ২৩ ও ২৪ এপ্রিল এ কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর শ্রম আইন সংস্কারের প্রতিবাদে তিন মাসেরও বেশি সময়ের জন্য ‘ব্ল্যাক টিউসডে’ নামের এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে শ্রমিকরা।

শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, প্রতিষ্ঠানের মুনাফার সুবাদে তাদের কর্মীরা আরও বাড়তি সুবিধার দাবিদার। ধর্মঘটের ফলে রেল চলাচলও বিঘ্নিত হচ্ছে। এ খাতে ধর্মঘটের নেতৃত্ব দিচ্ছে সরকারি রেল কোম্পানি এসএনসিএফ-এর কর্মীরা। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৭৭ শতাংশ ট্রেন চালক এ ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া ধর্মঘট পালন করছেন এসএনসিএফ-এর ৩৪ শতাংশ কর্মী।

এ ধর্মঘটকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ’র জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার সরকারের শ্রম আইন সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা কমে যাবে। ফলে এর প্রতিবাদে গণপরিবহনসহ বিভিন্ন সেক্টরে ধর্মঘটের ডাক দেয় শ্রমিকরা।

বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ধর্মঘটের সমর্থনে তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট আন্দোলন পালন করছে। তবে এ ধর্মঘটের কারণে পরীক্ষা পেছানোর কোনও পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এদুয়া ফিলিপ বলেছেন, সরকারঘোষিত  সংস্কার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ডাকা ধর্মঘটে কারণে পরীক্ষার তারিখ পেছানো হবে না।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, সরকার যতই অনড় হোক না কেন, তারাও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।

ফ্রান্সের উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর প্রত্যেকেই তাদের এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার ক্ষেত্রে আইন ও মনোবিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। চাপ সামলাতে না পেরে  জনপ্রিয় বিষয়গুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারির করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের একাংশ সরকারের এই সংস্কার প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট। তারা এখন পর্যন্ত তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘট ডেকেছে এবং বাকি আটটির  শিক্ষা কার্যক্রম আন্দোলনের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

প্যারিস  ওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের তোলবিয়াক শাখা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে ধর্মঘটের সমর্থনে কাজ করা  শিক্ষার্থীরা। তারা টেবিল-চেয়ার স্তূপ করে প্রবেশ পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই অবরোধ আন্দোলনে অনেক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন্ন বার্ষিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, ‘অবশ্যই’। উল্লেখ্য, বেশিরভাগ ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এপ্রিল ও মে মাসে।

কোসিমো নামের একজন আন্দোলনকারী তার সম্পূর্ণ নাম প্রকাশ না করে রয়টার্সকে বলেছেন, ‘দেখে বোঝা যাচ্ছে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কিন্তু আমারাও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছি। আমারা চেষ্টা করছি সরকারের বিরুদ্ধে চলমান অন্যান্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে কাজ করতে।’ সূত্র: গালফ টাইমস, রয়টার্স।

You Might Also Like

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).