যুক্তরাজ্যের ইউরোপ ত্যাগের পক্ষে আন্দোলন করেছেন এমন কয়েকজন ব্রেক্সিটের পক্ষে হওয়া আন্দোলনকে ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ আখ্যা দিয়ে স্মৃতি জাদুঘর স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। সংগঠনের সদস্যরা মিউজিয়াম অফ ব্রেক্সিট ডট ইউকে নামের একটি ওয়েব সাইট খুলে সেখানে যুক্তরাজ্যের বাসিন্দাদের ২০১৬ সালের ২৩ জুনে ব্রেক্সিটের পক্ষে হওয়া গণভোটের স্মৃতিবাহী ভাষণের অনুলিপি, আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন, ছবি, ফিতার তৈরি ব্যাজ, প্রচারপত্রসহ অন্যান্য জিনিস পাঠাবার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

ওয়েবসাইটটিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের পরিকল্পনা স্মৃতি, ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট জিনিসগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে আসা যাতে আমাদের দেশের ইতিহাস সংরক্ষণ করা যায়। আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি সংগ্রহশালা তৈরি করা যা যুক্তরাজ্যের স্বাধীনতার জন্য হওয়া আন্দোলনকে স্মরণ করিয়ে দেবে। মিউজিয়াম অফ ব্রেক্সিট নামের সার্বভৌমত্বের স্মৃতিবাহী জাদুঘরটি বানানোর উদ্যোগ যারা নিয়েছে এই ওয়েবসাইটটি তাদের।’ জাদুঘরটির জন্য নির্দিষ্ট স্থান এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে লিংকন শহরসহ ইংল্যান্ডের মধ্যভাগে ব্রেক্সিটের পক্ষে সমর্থন প্রবল হওয়ায় সেখানকার কোনও একটি স্থানেই জাদুঘরটির স্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। জাদুঘরের উদ্যোক্তারা ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের চরম ডানপন্থী ‘ইউকে ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টির’ (ইউকেআইপি) সাবেক নেতা নাইজেল ফারাজের সমর্থন পেয়েছেন, যিনি ব্রেক্সিটের পক্ষে শক্তিশালী প্রচারণা চালিয়েছিলেন।

ইউকেআইপির সাবেক মুখপাত্র এবং ব্রেক্সিট জাযুঘরের প্রধান উদ্যোক্তাদের একজন গাওয়েইন টাওলার বলেছেন, ‘নাইজেল ফারজের সংগ্রহে ইউকেআইপি সংশ্লিষ্ট ১৫ বছরের স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। আর তাছাড়া একটি ডিজিটাল সংগ্রহশালাও হবে।’ তার সহকর্মীরা শুধু ব্রেক্সিটের স্মৃতিবাহী স্মারক, পত্রিকা ও বই বিস্তারিতভাবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করেছেন তা নয়। বরং ১৯৭৩ সালে যুক্তরাজ্যের ইউরোপিয়ান ইকনমিক কমিউনিটির সদস্য হওয়ার সময় থেকে কয়েক দশক ধরে চলা ইইউবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্নও সংগ্রহ করা হবে।

উদ্যোগটির উদ্দেশ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘আমাদের লক্ষ্য এমন একটি জাদুঘর স্থাপন করা যা ব্রেক্সিটের ইতিহাস জানাবে। এই ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে, কিভাবে যুক্তরাজ্যকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল এবং পরে কিভাবে দেশটি আবার তার সার্বভৌমত্ব ফিরে পেয়েছে। ‘আমাদের ব্রেক্সিট রাতারাতি অর্জিত হয়নি। তা শুধু কয়েক মাসের লাগাতার কর্মসূচির দ্বারাও অর্জিত হয়নি। এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দশকের পর দশক ধরে হওয়া ঘটনা প্রবাহ, বিতর্ক এবং বিরোধ।’ স্মারকগুলো সংগ্রহের জন্য দেশ জুড়ে শাখা খোলা হবে, যেখানে জনসাধারণ স্মৃতিবাহী জিনিসগুলো জমা দিতে পারবে। জাদুঘরটি চালু হতে আরও বছর তিনেক বা তার চেয়েও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

You Might Also Like

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).