ন্যূনতম মজুরি ৫৩০০, সর্বোচ্চ ৬৮৫০ টাকা
মজুরি বোর্ডের স্থায়ী চার সদস্যের সঙ্গে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং শ্রমিক সংগঠনের একজন করে প্রতিনিধিকে যুক্ত করে রোববার মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই কমিটি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন কাঠামো যাচাই-বাছাই করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেবে। এরপর সরকার পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করবে।”

এর আগে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর। তিন হাজার টাকা মূল বেতন ধরে ৫ হাজার ৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি ঠিক করা হয়েছিল তখন। নতুন কাঠামোয় ওই বেতন তারা পাচ্ছেন ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে।

গত কয়েক বছরের মূল্যস্ফীতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন হতে হবে ১৬ হাজার টাকা।

প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারের এই শিল্পে ৪০ লাখের মত শ্রমিক জড়িত, যাদের অধিকাংশই নারী। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও মজুরি কাঠামো সব কারখানায় ঠিকমতো অনুসরণ করা হয় না বলেও অভিযোগ উঠেছে কখনও কখনও।

 ২০১২ ও ২০১৩ সালে তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন এবং সাভারে রানা প্লাজা ধসের প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের স্বল্প মজুরির বিষয়টি নতুন করে সামনে চলে আসে। পরে বিদেশি ক্রেতাদের চাপে বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে চুন্নু বলেন, “আমরা আশা করছি, আগের কাঠামোর পাঁচ বছর শেষ হওয়ার আগেই পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন একটি মজুরি কাঠামো দিতে পারব।”

একজন জেলা জজের নেতৃত্বে চার সদস্যের স্থায়ী মজুরি বোর্ডে মালিক ও শ্রমিক পক্ষ ছাড়াও একজন নিরপেক্ষ সদস্য আছেন। যখন যে খাতের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হয় সেই খাত সংশ্লিষ্ট মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে একজন করে প্রতিনিধিকে যুক্ত করে মজুরি বোর্ড ঘোষণা করে সরকার।

পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে স্থায়ী মজুরি বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এবং জাতীয় শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তা এ কে আজাদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা খুব ক্রিটিক্যাল সময় পার করছি। আমাদের ১৪ শতাংশ গ্রোথ হওয়ার কথা থালেও ৬ শতাংশ হয়েছে। অন্যান্য দেশের গ্রোথ আমাদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে, কারণ আমাদের বেসিক ম্যাটেরিয়াল নেই, গভীর সমুদ্রবন্দর নেই।… শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে আরও পিছিয়ে পড়ব।”

কিছু কিছু শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা করছে অভিযোগ করে আজাদ বলেন, “নতুন মজুরি বোর্ড ঘোষণার মধ্য দিয়ে আগামী দিনের সমস্যার সমাধান হবে, শ্রমিকদের অভুক্ত রেখে কারখানা চালাতে চাই না। তারা ভালো থাকলে উৎপাদন বাড়বে।”

শ্রম সচিব আফরোজা খান ছাড়াও শ্রম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

You Might Also Like

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).