ব্যাগটা রেখে মৌ ঘরে ঢুকল। বাবার অনেক জ্বর। তিনদিন ঘরে খাবার নেই। তার জীবনের শ্রেষ্ঠ এই খবরটি যেন বাবাকে বলতে পারছে না, চোখ ভিজে গেল মৌয়ের। এতদিনের সব কষ্ট বুঝি এবার ফুরাবে। চাকরিটা পেয়ে গেছে মৌ। এর মধ্যে কয়েকটি বিয়ের প্রস্তাব আসা শুরু করেছে। শেষ পর্যন্ত ঠিক হলো বিয়ে। কিন্তু শর্ত একটাই চাকরি করা যাবে না। এত ভালো ঘর বাবাও না করতে পারলেন না। সারা জীবনের কষ্ট কি তাহলে ঘরের দরজায় বন্দি হলো?
যদিও যোগ্যতা আছে তবু কেন ছাড়তে হবে চাকরি? এর পেছনের কারণগুলো কি? কারা বাধা হয়ে দাঁড়ায়?

অধিকাংশ অফিসে মাতৃত্বকালীন ছুটি দেয়া হয় না। দিলেও পুরো ছয় মাস দেয়া হয় না। এসব কারণে অনেক নারী চাকরি ছেড়ে দেন।
এছাড়া মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে সন্তানের দেখভালের কেউ না থাকায় সন্তানের সুস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেক নারী কর্মক্ষেত্রে আর যোগদান করেন না।

বিয়ের পর স্বামীর বাড়ির লোকজন বিশেষ করে শ্বশুর-শাশুড়ি চায় না ছেলের বউ চাকরি করুক। স্বামীর বাড়ির লোকজনের অসহযোগিতা এবং সংসারের শান্তির কথা ভেবে অধিকাংশ নারী চাকরি ছেড়ে দেন।

চাকরি করে অনেক নারী সংসারের সব কাজ সামালে নিতে পারেন না। ফলে সংসার-চাকরি টালমাটাল অবস্থায় চলতে থাকে। সংসারকে টালমাটাল অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে অনেক নারী চাকরি ছেড়ে দেন।

বদলির চাকরি হলে নারীরা থাকা-খাওয়া বিশেষ করে নিরাপত্তার কথা ভেবে এবং স্বামীর কর্মস্থল ও নিজের কর্মস্থল যদি একই জায়গায় না হয় সে কারণেও চাকরি ছেড়ে দেন।

You Might Also Like

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).