ঝুট ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান সুজন হত্যাকাণ্ডে পুলিশের করা মামলা থেকে মিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান জাহিদসহ আটজনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। অব্যাহতি পাওয়া আটজনের মধ্যে চারজনই পুলিশের সদস্য।
অপরদিকে এ ঘটনায় মহানগর দায়রা জজ আদালতে জাহিদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে করা মামলাটিও উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে। মামলাটি ১৫ মাসে সাক্ষী হয়েছে মাত্র ছয়জনের।


পুলিশের করা হত্যা মামলার অব্যাহতির আবেদনে উল্লেখ্য করা হয়, হত্যার ঘটনায় মহানগর দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় অপর একটি মামলা করা হয়েছে। একই ঘটনায় দুইটি মামলা আইনে চলতে না পারায় আসামিদের অব্যাহতি প্রদান করা হল।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু জাগো নিউজকে বলেন, ঝুট ব্যবসায়ী মাহমুদরে রহমান সুজন হত্যার ঘটনায় মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। অপরদিকে পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করে। একই ঘটনায় আইনে দুই মামলা চলার সুযোগ নেই। তাই পুলিশেরর দায়ের করা হত্যা মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

সুজনের ভাই শামীম বলেন, পুলিশের মামলা হতে এসআই জাহিদকে অব্যাহতি দেয়ায় আমরা মর্মাহত। আমরা ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত হয়েছি।

সুজনের স্ত্রী লুসির মামলা পরিচালনা কারী জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সদস্য শাহীনা মমতাজ বলেন, সুজন হত্যা মামলাটির মহানগর দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই মাহবুবুর রহমান সুজন হত্যার ঘটনায় এসআই জাহিদসহ আটজনকে আসামি করে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম। মামলার অপর আসামিরা হলেন, এএসআই রাজকুমার, কনস্টেবল আনোয়ার, রাশেদুল, সোর্স নাসির, পলাশ, খোকন ও ফয়সাল।

২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি এসআই জাহিদসহ সাত আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক শাহাবুদ্দীন।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ্য করেন, ঝুট ব্যবসায়ী সুজন হত্যার ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। এরপর তার স্ত্রী লুসি মহানগর দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

একই ঘটনায় দুইটি মামলা চলতে পারে কিনা এ বিষয় আদালতে গিয়ে ডিসি প্রসিকিউশনের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়। ডিসি প্রসিকিউশনের মতামত অনুযায়ী একই ঘটনায় দুইটি মামলার বিচারের সুযোগ না থাকায় আসামিদের অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলো।

২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল হক অব্যাহতি আবেদনটি গ্রহণ করেন।

অপরদিকে একই ঘটনায় ২০১৪ সালের ২০ জুলাই নিহত সুজনের স্ত্রী লুসি বাদী হয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আরও একটি মামলা করেন। ওই মামলায় একই বছরের ৩০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর হাকিম আশিকুর রহমান এসআই জাহিদ, এএসআই রাজকুমার, কনস্টেবল আসাদ, রাশেদুল ও মিথুনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

২০১৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন মহানগর দায়রা জজ আদালত। মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য রয়েছে।

You Might Also Like

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).