ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দর শহর ক্যালেতে ইরিত্রিয় ও আফগান অভিবাসীদের মধ্যে বিবাদের পর গোলাগুলির ঘটনায় চারজনের গুরুতর আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার অভিবাসীদের মধ্যে হওয়া এ সংঘর্ষে আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ এবং অন্তত ১২ জন জখম হয়েছেন।
গুরুতর আহত চারজন ছাড়া বাকিদের অবস্থা আশংকামুক্ত বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা তাদের।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী গেরার্ড কলম্ব শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘গুরুতর এ ঘটনা’ পর্যালোচনা করে দেখার ঘোষণা দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জেরার্ড কলম্বম সহিংসতার একটি “অসহ্য” বৃদ্ধির কথা বলেছেন। তিনি মানব পাচারকারীদের দায়ী করে “প্রতিদিনের সহিংসতা ও বিদ্রোহকে জ্বালানি” বলে অভিহিত করেন। তিনি এ অঞ্চলে বসতি স্থাপনকারীদের অনুমতি না দেয়ার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। “আমি যে বার্তাটি পেতে চাই তা হল যে আপনি যদি ব্রিটেন যেতে চান তবে এখানে আসেন না,” তিনি জোর দেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, আলাদা সম্প্রদায়ের অভিবাসীদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার সূত্র ধরে বিবাদ ও গোলাগুলি শুরু হয়।
“দুইশ ইরিত্রিয়ান নাগরিক আফগান অভিবাসীদের হুমকি দিলে পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিতে সেখানে হস্তক্ষেপ করে,” জানায় কেলের সরকারি দপ্তর।
ফ্রান্সের এ বন্দর এলাকায় ছয়শ অভিবাসীর বাস বলে কর্তৃপক্ষ বললেও, মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিবাসীর সংখ্যা ৮০০-র বেশি বলে দাবি করে আসছে।
কেলে’র সংঘর্ষ এমন এক সময় ঘটলো যখন ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে কেলেতে অভিবাসী ঠেকানোর জন্য ৪৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের যৌথ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন।
বন্দি ও ইউরোটানেল থেকে অভিবাসীদেরকে রাখা এবং ক্যাম্প স্থাপনের থেকে তাদের আটক করার জন্য কেলে এলাকায় ১ হাজার ১৩০টি সীমান্ত চৌকি স্থাপন করা হয়েছে; যাতে ফরাসি নিরাপত্তা বাহিনী দাঙ্গা পুলিশ, সীমান্ত পুলিশ রয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্র নিরাপত্তা বাহিনীকে বলেছেন যে, তারা যদি পেশাগত নিয়ম-কানুন পালন করতে ব্যর্থ হয় তবে তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে।

 

You Might Also Like

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).